কাজের চাপেই মৃত্যু’! গভীর রাতে ডেটা আপলোড করতে গিয়ে BLO-র অকালপ্রয়াণ, চাঞ্চল্য রাজ্যে!

গুজরাটের খেড়া জেলায় অতিরিক্ত কাজের চাপেই এক স্কুলশিক্ষক তথা বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর অকালমৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলল তাঁর পরিবার। জামবুদি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রমেশভাই পর্মা (৫০), যিনি নবাপুরা গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি BLO-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতেন, তাঁর মৃত্যু ঘিরে রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ‘SIR’ (Special Intensive Revision)-এর কাজের প্রচণ্ড মানসিক চাপই তাঁর প্রাণ কেড়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাতভর কাজ, সকালে নিথর দেহ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে BLO-এর কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরেন রমেশভাই। যেহেতু কর্মস্থলে নেটওয়ার্ক সমস্যা ছিল, তাই ডেটা আপলোডের জন্য তিনি তাঁর ভাই নরেন্দ্র পর্মারের বাড়িতে যান। সেখানে বসে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং তথ্য আপলোড করেন। এরপর বাড়ি ফিরে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমোতে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে রমেশবাবু কোনও সাড়াশব্দ করছেন না দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জানান, ঘুমের মধ্যেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রয়াত শিক্ষকের ভাই নরেন্দ্র পর্মার কান্নাভেজা কণ্ঠে অভিযোগ করেন, “কাজের প্রচণ্ড চাপেই ওঁর মৃত্যু হয়েছে। রাত পর্যন্ত কাজ করে বাড়ি ফিরেছিল। এই অতিরিক্ত চাপ কেউই নিতে পারবে না।” একই দাবি করেন প্রয়াত শিক্ষকের মেয়ে শিল্পাও। তিনি জানান, BLO-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বাবা প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।
মমতার ট্যুইটে বিতর্ক
গুজরাটে এই মৃত্যুর ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি কর্মীদের ওপর BLO-এর কাজের বোঝা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বুধবারই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই একই বিষয়ে BLO-দের পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন (EC)-কে একটি চিঠি দিয়েছিলেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সেই চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। গুজরাটে BLO-র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। SIR-এর বাড়তি চাপ কি সত্যিই সরকারি কর্মীদের জীবন বিপন্ন করছে? দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মী সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলি এই প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রসঙ্গে খেড়া জেলার জেলা কালেক্টর অমিত প্রকাশ যাদব কিংবা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিক পারেশ ভাগেলা— দু’জনের কারোর সঙ্গেই স্থানীয় সাংবাদিকমহল যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি।