নির্বাচনে হার, এবার পরিবারে বিদ্রোহ! তেজস্বী-সহযোগীদের তোপ দেগে রাজনীতি ছাড়লেন লালু-কন্যা রোহিণী

বিহারের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লালু প্রসাদ যাদবের পরিবার। বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি (RJD)-এর হতাশাজনক ফল (মাত্র ২৫ আসন) এবং তার পরেই পরিবারের অভ্যন্তরে তীব্র বিরোধ, পুরো দেশের নজর কেড়েছে। দলের এই খারাপ পারফরম্যান্স নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট হতাশা তৈরি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে জটিলতা আরও বাড়িয়েছেন লালু-কন্যা রোহিণী আচার্য। সম্প্রতি তিনি ছোট ভাই তেজস্বী যাদব এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে পরিবার ও রাজনীতি ছাড়ার বিস্ফোরক ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই ‘বোমা’ ফাটানোর পর বিহার তথা জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পরিবারের ফাটলে নীরব লালু-তেজস্বী; মুখ খুললেন চিরাগ পাসোয়ান
রোহিণীর ঘোষণার পর লালু প্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। পারিবারিক বিবাদের মধ্যে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা থেকে তাঁরা বিরত রয়েছেন। তবে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি) নেতা চিরাগ পাসোয়ান।

চিরাগ এই প্রসঙ্গে নারীর স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরতার পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে বলেন, “আমি মনে করি না একটি মেয়ের শ্বশুরবাড়িই একমাত্র বাড়ি। আমি এই ধরনের পুরনো ও মরচে পড়া ধারণাকে সমর্থন করি না।”

পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি পারিবারিক বিবাদ নিয়ে মন্তব্য করব না। আশা করি এই সমস্যা শীঘ্রই সমাধান হবে। আমিও জীবনে অনেক ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন ধরনের বিরোধ দেখেছি। কিন্তু লালু পরিবারের সাথে আমার সম্পর্ক সবসময় ব্যক্তিগত ও হৃদয়ঙ্গম। তেজস্বী, তেজ, মিসা এবং রোহিণীকে আমি আমার নিজের ভাই-বোনের মতো মনে করি। আমি প্রার্থনা করি, তাদের পারিবারিক সমস্যা খুব দ্রুত মিটে যাক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লালু পরিবারে পারিবারিক টানাপোড়েন নতুন নয়, তবে এবার তা প্রকাশ্য আকার ধারণ করেছে। রোহিণী আচার্যের এমন সিদ্ধান্তের পর দলের নেতৃত্ব কিছুটা চুপ। এখন পারিবারিক মতবিরোধ এবং রাজনীতির চাপ একসাথে সামলানোই লালু-তেজস্বীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। চিরাগ পাসোয়ানের সহানুভূতিশীল মন্তব্য এই পরিস্থিতিতে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।