চুল পড়ার জন্য আপনিই দায়ী! এই ৫টি অভ্যাস আজই না ছাড়লে মাথায় টাক নিশ্চিত! কী কী ভুল করছেন?

চুল পড়া এবং নতুন চুল গজানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ঝরতে শুরু করলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। পরিবেশ, জেনেটিক কারণ বা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন কিছু খারাপ অভ্যাসও চুলের সমস্যা বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।
আপনার জীবনযাপনে থাকা যে ৫টি অভ্যাস চুল পড়ার পরিমাণকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. চুলের ধরন না বুঝে ভুল শ্যাম্পু নির্বাচন করা
অনেকেই কোনো বাছ-বিচার ছাড়াই চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, যা চুলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সমস্যা: ভুল শ্যাম্পু ব্যবহারের কারণে মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক তৈলাক্তভাব (Natural Oil) নষ্ট হয়ে যায়।
ফলাফল: এতে চুলের গোড়া শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার পরিমাণ দ্রুত বাড়তে থাকে।
করণীয়: চুল পড়ার সমস্যা কমাতে চাইলে চুলের ধরন (তৈলাক্ত না শুষ্ক স্ক্যাল্প) বুঝে সঠিক মাইল্ড শ্যাম্পু নির্বাচন করা আবশ্যক।
২. চুল দীর্ঘ সময় ভেজা রাখা ও জোরে মোছা
গোসলের পর চুল দীর্ঘ সময় ভেজা রাখার বা ভেজা চুল নিয়েই কাজ করার অভ্যাস অনেকের থাকে।
সমস্যা: ভেজা অবস্থায় চুল অনেক বেশি নরম এবং দুর্বল থাকে। এই অবস্থায় চুল আঁচড়ালে, জোরে ঝাড়া হলে বা ঘষে ঘষে মোছা হলে তা সহজেই ভেঙে যায় ও গোড়া থেকে উঠে আসে।
করণীয়: গোসলের পরপরই ভেজা চুল আঁচড়ানো বা তোয়ালে দিয়ে ঘষে মোছা বন্ধ করুন। চুলকে স্বাভাবিকভাবে (Air Dry) শুকানোর সুযোগ দিন।
৩. নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করা (অপরিষ্কার স্ক্যাল্প)
চুল পড়ার জন্য দায়ী আরেকটি খারাপ অভ্যাস হলো নিয়মিত চুল ও স্ক্যাল্প পরিষ্কার না রাখা।
সমস্যা: প্রতিদিনকার ধুলোবালি, দূষণ এবং ঘামের কারণে চুল অপরিষ্কার হয়ে যায়। যত্ন করে তা পরিষ্কার না করলে স্ক্যাল্পে ময়লা ও ফাঙ্গাস জমে চুল পড়া বাড়তেই থাকবে।
করণীয়: চুলকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে চুলের গোড়া এবং স্ক্যাল্প নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, তবে খুব গরম জল ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
৪. শরীরে ভিটামিন বি১২ এর মারাত্মক ঘাটতি
শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি১২ নতুন হেয়ার সেল (Hair Cell) বা চুলের কোষ তৈরিতে সাহায্য করে।
সমস্যা: শরীরে এই অত্যাবশ্যক ভিটামিন বি১২ এর ঘাটতি দেখা দিলে নতুন চুল গজানো কমে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়।
করণীয়: ভিটামিন বি১২ সাধারণত প্রাণিজ প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) থেকে বেশি পাওয়া যায়। ভেজিটেবল ডায়েটে থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।
৫. আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা
আমাদের শরীর সুস্থ রাখার জন্য পর্যাপ্ত আয়রনের প্রয়োজন। আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা দেখা দিলে চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে চুল পড়ার সমস্যাও বাড়তে পারে।
করণীয়: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার যোগ করতে হবে। যেমন:
শাক-সবজি: পালং শাক, মোচা, থোড়, ডুমুর, সবুজ শাক-সবজি।
ফল ও বাদাম: কলা, আমন্ড।
এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসে মনোযোগ দিলে দ্রুত চুল পড়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।