হাওড়া স্টেশনে আরপিএফের জালে ২ পাচারকারী! ‘অপারেশন আহাত’-এ উদ্ধার ২ নাবালক, কী ছিল আসল ছক?

মানব পাচার (Human Trafficking) রোধে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) প্রশংসনীয় সক্রিয়তা অব্যাহত রয়েছে। ‘অপারেশন আহাত’ কর্মসূচির আওতায় বুধবার, ১১ নভেম্বর, হাওড়া ডিভিশনের আরপিএফ হাওড়া স্টেশনে একটি সফল অভিযান চালিয়ে দুই নাবালককে উদ্ধার করেছে এবং দুই মানব পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে।

আরপিএফ হাওড়া সাউথ পোস্ট নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযানটি পরিচালনা করে। এই অভিযানে আরপিএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন অ্যাসোসিয়েশন ফর ভলান্টারি অ্যাকশনের সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা শ্রী সুমন গড়াই এবং জীবিকা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির কর্মীরা। হাওড়া স্টেশনের ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অভিযান চলাকালীন, পাচারকারীদের হাত থেকে দুটি নাবালক ছেলেকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া পাচারকারী এবং উদ্ধার হওয়া নাবালকদের জিআরপিএস/হাওড়ায় (GRP/Howrah) হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বি এন এস) এবং শিশু শ্রম (নিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রেলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব রেল (Eastern Railway) তাদের সমস্ত বড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নজরদারি বাড়িয়েছে। পাচারকারীদের ধরতে একাধিক অভিযান চলছে। দূরপাল্লার ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে আধ ঘণ্টা আগে থেকে কোচ পরিদর্শন এবং বিন্দুমাত্র সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রেলের তরফে সিসি ক্যামেরা ফিডে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। নাবালক বা শিশুদের সঙ্গে যারা যাতায়াত করছেন, তাদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পূর্ব রেলওয়ে আরপিএফ জানিয়েছে, তারা সমাজের দুর্বল অংশ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মানব পাচারের হুমকি থেকে রক্ষা করতে ক্রমাগত নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য-ভিত্তিক পদক্ষেপ এবং সমাজকল্যাণ সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।