লালকেল্লা বিস্ফোরণের পরই পিওকে-তে জঙ্গিদের ‘উৎসব’! লস্কর কমান্ডারদের মালা পরিয়ে বৈঠকের ছবি প্রকাশ্যে

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার দুই দিন পর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-র একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, লস্কর-ই-তইবা (LeT)-র জঙ্গিরা একত্রিত হয়ে উৎসবমুখর এক গোপন বৈঠকে যোগ দিচ্ছে এবং তাদের কমান্ডারদের মালা পরিয়ে বরণ করা হচ্ছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় গোয়েন্দারা এর সময় ও প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখছেন। প্রশ্ন উঠেছে, এই উল্লাস কি লালকেল্লা বিস্ফোরণের ‘সফলতা’ উদযাপনের জন্য? সোমবারের ওই বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয় এবং বুধবার ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে ঘোষণা করে।
জইশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ, হানিফকে নিয়ে উদ্বেগ
গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, বুধবার পিওকে-র কোটলি এলাকায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লস্কর-ই-তইবার দুই শীর্ষ নেতা—আব্দুল রউফ এবং রিজওয়ান হানিফ—উপস্থিত ছিলেন। রিজওয়ান হানিফ, যিনি লস্করের উপপ্রধান (নায়েব আমির), তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করেন বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
রিজওয়ান হানিফ ‘হিলাল-উল-হক’ নামের একটি কমব্যাট ব্রিগেডের প্রধান, যা লস্কর ও জইশের যৌথ ইউনিট হিসেবে কাজ করে এবং প্রকাশ্যে “পিপলস অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট” (PAFF)-এর ব্যানারে কার্যক্রম চালায়। গোয়েন্দাদের দাবি, কাশ্মীর হামলার সঙ্গে জড়িত জঙ্গি হাবিব তাহিরও হানিফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, এই বৈঠক লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। ভিডিওর সময়কাল, জঙ্গিদের উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিমা ও আনন্দোচ্ছ্বাস দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বিস্ফোরণ সফল হওয়ার পরই লস্কর নেতারা এই ‘উদযাপন সভা’র আয়োজন করেছিল। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে সীমান্তের ওপারের নেটওয়ার্কের যোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।