২৪-এর ভোটারকে রাতারাতি বাদ দিচ্ছে কমিশন! SIR প্রক্রিয়া নিয়ে শীর্ষ আদালতে তোলপাড়

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার সরাসরি দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নোটিস জারি করে জবাব চেয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তারই প্রেক্ষিতে বুধবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের দু’টি মূল প্রশ্ন তুলে ধরেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রশ্নটি ছিল কমিশনের সূচক (Index) নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালের ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার পর পুরনো আসনগুলির গঠনই বদলে গিয়েছে। সেই প্রক্রিয়া ২০০৮ সালে শেষ হয় এবং ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে নতুন বিন্যাস কার্যকর হয়। যে আসনের এখন আর অস্তিত্বই নেই, সেটিকেই কমিশন সূচক হিসাবে ধরছে কীভাবে?” সাংসদ সরাসরি এই পদ্ধতিকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর যুক্তি, বহু পুরনো আসন মুছে গেছে, তৈরি হয়েছে নতুন আসন। সেই পরিবর্তনের পরে ২০০২ সালের তালিকাকে রেফারেন্স ধরা আইনসিদ্ধ নয়।
তৃণমূলের দ্বিতীয় অভিযোগ আরও গুরুতর। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে যারা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নাম কমিশন রাতারাতি বাদ দিচ্ছে কীভাবে?” তাঁর মতে, নাম বাদ দেওয়ায় নতুন করে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যার নাম তালিকায় ছিল, কমিশন কি এভাবে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর নাম বাদ দিতে পারে?
এই মামলায় তৃণমূলের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ডিএমকে (DMK), কেরলের সিপিএম (CPIM) এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেসও (Indian National Congress) মামলা করেছে। মঙ্গলবার বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেছিলেন, “আমি মনে করি, SIR প্রক্রিয়াটি স্থগিত হওয়া উচিত।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, আদালত থেকে স্থগিতাদেশ না এলেও, তৃণমূলের এই আইনি লড়াই SIR প্রক্রিয়ায় কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে।