লাল কেল্লা বিস্ফোরণের জালে লখনউয়ের ডাক্তার-লখিমপুরের মাদ্রাসার ছাত্র!! উত্তর প্রদেশে ISKP-এর ‘সিক্রেট’ নেটওয়ার্ক ফাঁস

দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বোমা হামলার তদন্তে এবার চাঞ্চল্যকরভাবে উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলার সঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগসূত্র সামনে এসেছে। লখনউ (Lucknow) এবং লখিমপুর খেরি (Lakhimpur Kheri) জেলাকে ঘিরে সন্দেহের জাল ঘন হওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা মহল।

গুজরাটে ধৃত লখিমপুরের সোহেল

গুজরাট এটিএস (ATS) সম্প্রতি আহমেদাবাদ থেকে আইএসকেপি (ISKP) মডিউলের সঙ্গে যুক্ত তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে লখিমপুর খেরির নিঘাসন এলাকার ঝালা গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ সোহেল অন্যতম। সোহেল মুজাফফরনগরের জামিয়া দারুল উলুম আজিজিয়া মাদ্রাসায় ধর্মীয় পড়াশোনা করত। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শামলি জেলার সুলেমান শেখের সঙ্গে সোহেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই সম্পর্কের মাধ্যমেই উত্তর প্রদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও সোহেলের পরিবার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেছে।

লখনউয়ের ডাক্তার ও অস্ত্রবাহী গাড়ি

অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ লখনউয়ের লালবাগ এলাকার বাসিন্দা ডাঃ শাহীন শহীদ নামে এক মহিলা ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, তাঁর গাড়ি ব্যবহার করত ডাঃ মুজামিল নামে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি। ওই গাড়ি থেকেই একটি রাইফেল ও তাজা গুলি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ডাঃ শাহীন তাঁর গাড়িটি অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন কি না।

উত্তর প্রদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তার এবং যোগী সরকারের কঠোর নির্দেশ

তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলি অনলাইনে মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর, সিদ্ধার্থনগর ও শ্রাবস্তী-সহ সীমান্তবর্তী জেলার তরুণদের প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করছে।

দিল্লি বিস্ফোরণের পর উত্তর প্রদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ মহাপরিচালক রাজীব কৃষ্ণের সঙ্গে উচ্চস্তরের বৈঠকের পর গোটা রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশাবলী:

  • সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন।
  • বাজার, ধর্মীয় স্থান ও পরিবহনকেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি।
  • সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি জোরদার।
  • মেট্রো, রেলস্টেশন ও মলে নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
  • এটিএস, বোমা স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াডকে সতর্ক অবস্থায় রাখা।
  • সিসিটিভি ফুটেজের রিয়েল-টাইম বিশ্লেষণ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ঠেকাতে বিশেষ দল গঠন।