দেহ লোপাটের নীল বাতি গাড়ি নিয়েই বিডিও-কে এয়ারপোর্টে ড্রপ! যাত্রাগাছির সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ভয়ংকর সত্য

নিউটাউনের যাত্রাগাছিতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্তে এবার উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা রাজ্যের প্রশাসন মহলে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন ফেলে দিয়েছে। দিন আটেক আগে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে এবার নাম জড়াল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) প্রশান্ত বর্মনের। খুনের পর দেহ লোপাটে নাকি ব্যবহার করা হয়েছিল একটি প্রশাসনিক ‘নীল বাতি গাড়ি’।

নীল বাতি গাড়ি ঘিরে রহস্য
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে উঠে আসা তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রশাসনিক গাড়ির যোগের দিকেই ইঙ্গিত করছে:

সিসিটিভি প্রমাণ: পুলিশের হাতে এসেছে যাত্রাগাছি খালের সিসিটিভি ফুটেজ। খুনের পর দেহ যে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই পথের ফুটেজে দেখা যায় নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে বেরিয়ে খালের দিকে যাচ্ছে। ওই গাড়িতে নীল বাতি স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, যা প্রশাসনিক গাড়ি বলেই মনে করছে পুলিশ।

বিডিও-র গাড়ির সন্দেহ: তদন্তে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে যে, এই গাড়িটি বিডিও প্রশান্ত বর্মনের অফিসিয়াল গাড়ি বলেই সন্দেহ।

খুনের গাড়ি নিয়েই বিডিও-কে ‘ড্রপ’
সূত্রের খবর, এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তের মধ্যে অন্যতম চালক রাজু ঢালী। সে-ই গাড়িটি চালিয়েছিল। সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো—২৮ তারিখে এই গাড়িতে করেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুন করে দেহ লোপাট করা হয়েছিল। আর তার পরের দিন, ২৯ তারিখ, এই একই গাড়িতে করে রাজু ঢালী জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে এয়ারপোর্টে ছাড়তে গিয়েছিল।

পুলিশ বর্তমানে দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ২৮ তারিখে গোটা ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল, পরিকল্পনাকারী কে, এবং কীভাবে দেহ ফেলা হয়েছিল—সমস্ত বিষয় নিয়েই চলছে জেরা। এই ঘটনায় প্রশাসনের উচ্চ মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।