নজিরবিহীন! ‘ঢাকা লকডাউনের’ আগেই রাজপথের ‘দখল’ নিল ৭ হাজার পুলিশ, ইউনূসের বাড়ির নিরাপত্তা তুঙ্গে

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা মহড়া। আগামী বুধবার আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির আগেই শনিবার ঢাকার রাজপথে নেমে এলো প্রায় ৭ হাজার পুলিশ কর্মী। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) কর্মীদের শহরের মোট ১৪২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা গিয়েছে।
ইউনূসের বাসভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি
এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা। দেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবনের সামনে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ভবন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ির সামনেও বন্দুক হাতে পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ কর্মীরা।
যদিও মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সরকারিভাবে দাবি করেছেন, মহড়ার সঙ্গে বুধবারে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁর মতে, এটি একটি রুটিন মহড়া—যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বাহিনীর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই এর আয়োজন।
নিরাপত্তায় বড়সড় পরিবর্তন
উল্লেখ্য, গত দেড় বছর ধরে ঢাকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে গত ১৫ মাস রাজধানীর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সশস্ত্র বাহিনী। কিন্তু গত দু’দিন আগেই সেই বাহিনী থেকে প্রায় ৬০ হাজার জওয়ানকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সেনা কর্তৃপক্ষ। তাদের জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার কাজ করা জওয়ানদের এখন বিশ্রামের প্রয়োজন।
সেনা প্রত্যাহারের পর ঢাকার নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে। এই পরিস্থিতিতেই বুধবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে এই ব্যাপক মহড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে কড়া নজর
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন শেখ হাসিনার দলের কাজকর্মের উপর বিধি-নিষেধ জারি করলেও, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা এখনও সক্রিয়। গত কয়েক মাসে হাসিনার দলের ৩ হাজার কর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই মাঝে দলের কার্যকরী কমিটির নেতা জাহাঙ্গির কবির নানক ভারত থেকে বুধবারের ‘ঢাকা লকডাউন’-এর ডাক দিয়েছেন। এই কর্মসূচি ঘিরে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ আগাম সতর্কতা শুরু করেছে।