দেহ শনাক্ত করে শেষকৃত্যও হলো, তারপরই এল চরম চমক! পুলিশ কেন মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেনি?

ছত্তিসগড়ের সূরজপুর জেলায় এক অবিশ্বাস্য ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটেছে। দু’দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক যুবককে মৃত ভেবে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে ফেলেছিল পরিবার। কিন্তু শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া চলাকালীনই জানা যায়, যে যুবক নিখোঁজ ছিলেন, তিনি জীবিত এবং এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন! এই ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয়রা উভয়েই হতবাক।
কুয়ো থেকে উদ্ধার হওয়া দেহটি কার?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুষোত্তম (নাম পরিবর্তিত) নামে এক যুবক গত দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। এর মধ্যেই কাছের একটি কুয়ো থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি দেখে পুরুষোত্তমের পরিবারের সদস্যরা সেটিকে তাঁদের নিখোঁজ আত্মীয়ের বলে শনাক্ত করেন।
পরিবারের শনাক্তকরণের পরই পুলিশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সেরে মৃতদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেয়। পরিবারের সদস্যরা শোকের আবহে নিয়ম মেনে দেহটির শেষকৃত্যও সম্পন্ন করেন (মাটির তলায় কবর দেন)।
শেষকৃত্যের পরই চূড়ান্ত চমক
শেষকৃত্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে সেই চরম চমক। পরিবারেরই অন্য কয়েকজন আত্মীয় সেখানে এসে জানান, যাঁর শেষকৃত্য হলো তিনি আসলে পুরুষোত্তম নন! পুরুষোত্তম জীবিত এবং কাছেই এক গ্রামে অন্য আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন।
দ্রুত পরিবারের সকলে ছুটে যান সেই গ্রামে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষোত্তম সত্যিই ভালো আছেন। তিনি নিজেও জানান, দু’দিন আগে তিনি ওই আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন।
এখন প্রশ্ন—তাহলে ওই ব্যক্তি কে?
নিখোঁজ যুবক জীবিত ফিরে আসার পর এখন সবচেয়ে বড় রহস্য হলো—পরিবার যাঁকে ভুল করে পুরুষোত্তম ভেবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করল, সেই হতভাগ্য ব্যক্তিটি তাহলে কে?
ভুল পরিচয়ে কবর দেওয়া এই ব্যক্তির আসল পরিচয় কী, তাঁর পরিবারের খোঁজই বা কোথায়—সেই রহস্য উদ্ঘাটনে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে সূরজপুর জেলা পুলিশ। এত বড় শনাক্তকরণ ও প্রশাসনিক ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।