পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ, জঙ্গি হামলার ‘দায়’ নিতে নারাজ তালিবান!

একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র আফগানিস্তান (Afghanistan) এবং পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে শান্তি আলোচনা ফের একবার ভেস্তে গেল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) বহাল থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। শনিবার তালিবান (Taliban) মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন যে আলোচনা ভেঙে গিয়েছে। মূল কারণ, ইসলামাবাদের অযৌক্তিক দাবি।

তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, আলোচনার টেবিলে পাকিস্তান দাবি করে যে কাবুলকে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। এই দাবিকে আফগানিস্তানের সামর্থ্যের বাইরে বলে অভিহিত করেছেন মুজাহিদ।

পাকিস্তান চেয়েছিল যে তালিবান লিখিতভাবে স্বীকার করুক যে, পাকিস্তানে যে কোনও জঙ্গি হামলার দায় আফগানিস্তানের। কারণ তাদের মতে, আক্রমণকারীরা আফগান ভূমি থেকেই উদ্ভূত।

তালিবানের যুক্তি: এর তীব্র বিরোধিতা করে তালিবান যুক্তি দেয়, “আমরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারি না। কারণ পাকিস্তান একটি স্বাধীন দেশ এবং পাকিস্তানের নিজস্ব নীতি এবং সমস্যা রয়েছে।”

লিখিত চুক্তিতে অনীহা: পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তালিবান মৌখিক আশ্বাস দিলেও লিখিতভাবে কোনও প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি হয়নি, যা আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

সীমান্ত সংঘর্ষের মধ্যেই আলোচনা ব্যর্থ
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে (Istanbul) এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ঠিক একদিন আগেই সীমান্তে আফগান ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছিল, যা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করে।

যুদ্ধবিরতি বহাল: জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, “এখনও পর্যন্ত, আমাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কোনও ঘটনা ঘটেনি এবং এটি অব্যাহত থাকবে।”

পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিফ শুক্রবার বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে আক্রমণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। অর্থাৎ, প্রথমে গুলি চালাবে না পাকিস্তান।

উত্তেজনা বাড়ছে সম্পর্কে
২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মাসে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়, যা ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষ।

অক্টোবরে দোহায় (Doha) দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করলেও, ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় দফা আলোচনা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়।

জানা গেছে, আফগানিস্তানে উপস্থিত পাকিস্তান-বিরোধী সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে (যেমন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান- TTP) নিয়ে মতবিরোধের কারণেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান (Recep Tayyip Erdoğan) শনিবার বাকুতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দেখা করে আশা প্রকাশ করেন যে আলোচনা স্থায়ী স্থিতিশীলতা আনবে। তিনি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তুরস্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।