“কলকাতায় না গেলে বিশ্বজয় সম্ভব হতো না!”-কেন উত্তরবঙ্গের ‘দুর্দশা’ তুলে ধরলেন রিচা?

দিল্লি থেকে বিমানে বাগডোগরায় নামতেই তীব্র জনজোয়ার, বিশ্বজয়ী মেয়েকে এক ঝলক দেখার জন্য জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তবে এই বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনার মাঝেও উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াক্ষেত্রের চরম দৈন্যদশার কথা তুলে ধরলেন ভারতীয় ক্রিকেটের প্রথম বাঙালি বিশ্বজয়ী, রিচা ঘোষ। বিশ্বজয়ের পরও নিজের জন্মস্থানের পরিকাঠামোর অভাব নিয়ে সোজাসাপটা কথা বললেন শিলিগুড়ির ২২ বছর বয়সী এই তরুণী।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিচা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কলকাতা বা তার সংলগ্ন এলাকায় ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলার যে সুযোগ সুবিধা রয়েছে, অন্য জেলায় তা কার্যত নেই। শিলিগুড়ি অঞ্চলে আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অভাব প্রকট, যা তাঁর কথায় পরিষ্কার।

রিচা ঘোষ বলেন, “পুরোটাই আমার পরিবারের কৃতিত্ব। আমাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিল বলেই হয়তো এখনও এই খেলাটায় আমি রয়েছি। শিলিগুড়িতে পরিকাঠামোর উন্নতি হওয়া প্রয়োজন। এটা আমি আগে থেকেই বলে আসছি।”

বিশ্বকাপ জয়ী এই ‘ফিনিশার’-এর দাবি, শুধু ক্রিকেট নয়, অন্যান্য খেলাতেও মেয়েরা আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাই সামগ্রিকভাবে খেলাধুলোর পরিকাঠামোর উন্নতি প্রয়োজন, বিশেষ করে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি হলে উত্তরবঙ্গের ছেলে-মেয়েরা উপকৃত হবে।

রিচা ঘোষের এই মন্তব্যের মধ্যেই শিলিগুড়িতে তাঁর জন্য চলছে এলাহি আয়োজন। সুভাষপল্লিতে রিচার বাড়ি আজ রঙিন আলো ও ফুলে সেজে উঠেছে। পাড়ার মেয়ে আজ গোটা দেশের গর্ব, তাই উচ্ছ্বসিত প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। রিচার বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটসাঁট করা হয়েছে, যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।

জানা গিয়েছে, মেয়ে ফিরলে তার প্রিয় খাবার মেনুতে রেখেছেন মা স্বপ্না ঘোষ। মেনুতে থাকছে ফ্রায়েড রাইস, পনির এবং মিক্সড ভেজ। বাড়ি থেকে বাঘাযতীন পার্ক পর্যন্ত রেড কার্পেট পেতে রিচাকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হবে। এরপর মঞ্চে নাগরিক সংবর্ধনা ও শিলিগুড়ি পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হবে।

ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিচাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে পুলিশে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৫৪ বছর পর ভারতীয় মহিলা দলের বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যে রিচার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ক্রিকেটের মঞ্চে প্রথম বাঙালি বিশ্বজয়ী হিসেবে তিনি দ্রুতই ভারতের ‘বিশ্বস্ত ফিনিশার’ হয়ে উঠেছেন। গোটা প্রতিযোগিতায় তিনি মোট ২৩৫ রান করেছেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লিগ ম্যাচে তাঁর সর্বোচ্চ ৯৪ রান ছিল। ফাইনালে তিনি মাত্র ২৪ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। পুরো বিশ্বকাপে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে মোট ১২টি ছক্কা।

নিজের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে রিচা আশা প্রকাশ করেন, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো পুরুষ ক্রিকেটের আইকনদের মতোই মহিলা ক্রিকেটের চিত্রটাও দ্রুত বদলে যাবে। তিনি বলেন, “আশা করি এরপর শিলিগুড়িতেও ক্রিকেট স্টেডিয়াম হবে। বদলে যাবে মেয়েদের ক্রিকেটের চিত্র।”