৬৩ বছরের বিজেপি নেতাকে চড়-থাপ্পড়, গলায় জুতোর মালা! কোচবিহারে গ্রেফতার ৩ তৃণমূলকর্মী, অস্বীকার তৃণমূলের

ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ চলাকালীন রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের মাথাভাঙা। বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-কে মারধর করে, জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে তিন তৃণমূলকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

কী ঘটেছিল?
মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লক বিজেপি BLA, ৬৩ বছর বয়সী নিভাস দাস অভিযোগ করেছেন, তিনি পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিএলও (BLO)-র সঙ্গে বাড়ি বাড়ি ঘোরার সময় তৃণমূলের লোকজন তাঁকে আক্রমণ করে।

নিভাস দাসের অভিযোগ: “সকাল সাড়ে ৯টার সময় ওরা আমাকে মারধর করল। ঘুষোঘুষি, লাথি মারল। চড়-থাপ্পড় মারল, আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল। আর শর্মিলা দাস জুতোর মালা পরিয়ে দিল।” নিভাস দাস জানান, ফটিক দাস, ক্যাটা দাস এবং শর্মিলা দাস—এই তিনজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

আক্রমণের কারণ: তাঁকে কেন এমনটা করা হলো—এই প্রশ্নের উত্তরে নিভাস দাস বলেন, “আমি ওই যে বিরোধী। আমি বিজেপি পার্টি থেকে BLA-২ হিসেবে গেছি। যার জন্য আমাকে এই ঘটনাটা ঘটিয়ে দিল।”

পুলিশের পদক্ষেপ ও তৃণমূলের দাবি
বিজেপি নেতার ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথাভাঙা থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এবং বিজেপির পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হয়। এরপরই পুলিশ ফটিক দাস-সহ তিন তৃণমূলকর্মীকে গ্রেফতার করে। নির্বাচন কমিশনকেও গোটা ঘটনাটি জানিয়েছে বিজেপি।

তৃণমূলের অস্বীকার: যদিও মাথাভাঙার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি পাপাই দাস এই ঘটনার সঙ্গে দলীয় যোগ থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটা শুনেছি, কিন্তু এখানে তৃণমূল কিছু করেনি। আসলে মানুষ এসআইআর নিয়ে আতঙ্কিত, তাই হয়তো এমন ঘটনা ঘটেছে।”

তবে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলাকালীন একজন BLA-কে মারধর ও অপমান করার ঘটনায় তৃণমূলের নাম জড়ানোয় রাজ্যের শাসক দলের অস্বস্তি বেড়েছে।