নেহরুর ‘হিন্দু বিরোধী’ মানসিকতার সঙ্গে রাহুল গান্ধীর তুলনা! জাতীয় গান নিয়ে পুরোনো বিতর্কে নতুন মোড় আনল বিজেপি

‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানের ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আবহে এবার সরাসরি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, নেহরু ইচ্ছাকৃতভাবে দেবী দুর্গাকে নিয়ে লেখা স্তবকগুলি বাদ দিয়ে গানটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন।
বিজেপি-র মুখপাত্র সি আর কেশভন একটি বিস্তারিত পোস্টে নেহরুর এই কাজকে “ঐতিহাসিক পাপ ও ভুল” বলে অভিহিত করেছেন।
নেহরুর বিরুদ্ধে বিজেপির মূল অভিযোগ
দেবী-স্তবক বাদ: সি আর কেশভনের দাবি, নেহরু ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন এই কাজটি করেন। তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণে মা দুর্গার প্রশংসা করা স্তবকগুলি ছিল, যা নেহরু ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়েছিলেন।
সুভাষচন্দ্র বসুর অবস্থান: কেশভন উল্লেখ করেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গানটির “সম্পূর্ণ মূল সংস্করণ” প্রকাশের পক্ষে থাকলেও, নেহরু এটিকে জাতীয় গান হিসেবে “উপযুক্ত নয়” বলে মনে করতেন।
নেহরুর চিঠি: নেহরুর ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭ সালের একটি চিঠির অংশবিশেষ তুলে ধরে কেশভন দাবি করেন, নেহরু বন্দে মাতরম-এর কথাগুলিকে দেবী-সম্পর্কিত বলে মনে করাকে “অযৌক্তিক” বলেছিলেন। এরপর ২০ অক্টোবর, ১৯৩৭ সালে নেতাজিকে লেখা চিঠিতে নেহরু বলেছিলেন যে, বন্দে মাতরম-এর প্রেক্ষাপট মুসলমানদের “বিরক্ত” করতে পারে।
সি আর কেশভনের যুক্তি: “বন্দে মাতরম কোনো বিশেষ ধর্ম বা ভাষার সঙ্গে যুক্ত ছিল না। কিন্তু কংগ্রেস নেহরুর অধীনে ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে মা দুর্গার প্রশংসা করা স্তবকগুলি সরিয়ে এই ঐতিহাসিক পাপ ও ভুল করেছে।”
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তুলনা
কেশভন তাঁর আক্রমণে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেহরুর “হিন্দু বিরোধী” মানসিকতার সঙ্গে বর্তমান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও তুলনা করেন। তাঁর মতে, নেহরুর সেই মানসিকতারই প্রতিধ্বনি বর্তমানে রাহুল গান্ধীর মধ্যে দেখা গিয়েছে।
জাতীয় গানকে কেন্দ্র করে এই পুরনো বিতর্ক উস্কে দেওয়ার ফলে ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।