জনগণমন’ বিতর্ক ঘিরে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি! বিজেপি সাংসদের মন্তব্যে রবীন্দ্রনাথকে অপমানের অভিযোগ তৃণমূলের

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ (Jana Gana Mana) নিয়ে কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরির বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। সাংসদ কাগেরি দাবি করেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজদের খুশি করতে ‘জনগণমন’ লিখেছিলেন এবং এটি ব্রিটিশ সম্রাট পঞ্চম জর্জকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল।

বিজেপির বিরুদ্ধে বরাবরই ‘বাংলা ও বাঙালি বিরোধী’ তকমা সাঁটার চেষ্টা করে আসা তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে ফের একবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে।

তৃণমূলের তীব্র আক্রমণ: ‘কবিগুরুকে ছোট করা যাবে না’
সাংসদ কাগেরির মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ব্রাত্য বসু এবং মন্ত্রী শশী পাঁজা।

ব্রাত্য বসুর কটাক্ষ: ব্রাত্য বসু সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইতিহাস বিকৃত করে কবিগুরুকে অপমান করছে। তিনি বলেন, ‘জনগণমন’ লেখার সঙ্গে পঞ্চম জর্জের আগমনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি মিথ্যাকে ইতিহাস হিসেবে তুলে ধরছে। উদাহরণ টেনে তিনি এই যুক্তিকে ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করেন।

শশী পাঁজার অভিযোগ: মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, বিজেপি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা তাদের পুরনো কৌশল। তিনি বলেন, বাঙালি এই অপমান কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কোনোদিনই রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতে জানে না।

কেন এই বিতর্ক?
বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরি আরও বলেন যে, ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ হওয়া উচিত ছিল। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্ণাটকের শাসকদল কংগ্রেসও এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ‘জনগণমন’ নিয়ে এই বিতর্ক নতুন নয়। অতীতে বহুবার অভিযোগ উঠেছে যে এটি পঞ্চম জর্জকে স্বাগত জানাতেই লেখা হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদরা বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, কবিগুরু নিজেই লিখেছিলেন, তাঁর এই গান মানুষের ‘জননায়ক’-কে উদ্দেশ্য করে, কোনো রাজাকে নয়।

এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিজেপি কড়া আক্রমণ শানিয়েছে। তবে তৃণমূলের এই অভিযোগ সামনে আসার পর জাতীয় সঙ্গীত ইস্যুতে বিজেপি এবার বড়সড় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।