ভারত হলো ‘নির্মাতার নৌবাহিনী’! সমুদ্রের তল মাপতে মোদির আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক ‘INS ইক্ষাক’

দেশীয় জাহাজ নির্মাণে আরও এক ঐতিহাসিক সাফল্যের সাক্ষী রইল গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) লিমিটেড। বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫-এ ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হল আইএনএস ইক্ষাক (INS Ikshak)। এই আধুনিক ‘সার্ভে ভেসেল লার্জ’ (SVL) জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করেছে কলকাতার এই সংস্থা।

এই কমিশনিং এমন এক সময়ে হলো যখন GRSE মাত্র আড়াই মাসে তিনটি প্রধান যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে ভারতীয় জাহাজনির্মাণে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল। গত অক্টোবর মাসে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ক্রাফট আইএনএস আন্দ্রোথ এবং আগস্টে কমিশন হয়েছিল উন্নত গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট আইএনএস হিমগিরি।

৬ দশকের রেকর্ড: দেশের অন্য কোনও শিপইয়ার্ডের নেই এই নজির
‘ইক্ষাক’— যার অর্থ ‘দিশারী’ বা ‘গাইড’— হলো চারটি SVL শ্রেণির জাহাজের তৃতীয়টি। এটি GRSE-এর তৈরি করা ৮০৩-তম জাহাজ এবং ১১৪-তম যুদ্ধজাহাজ। নৌবাহিনীতে সরবরাহ করা এটি GRSE-এর ৭৬-তম যুদ্ধজাহাজ— এমন রেকর্ড দেশের অন্য কোনও শিপইয়ার্ডের নেই।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে. ত্রিপাঠি বলেন, “নৌবাহিনীর সার্ভে জাহাজগুলি সমুদ্রকে আমাদের কাছে পরিচিত, নিরাপদ ও নৌচলাচলের উপযোগী করে তোলে। তারা প্রতিটি মাইলে আমাদের ‘অজানা’-কে ‘জানা’-তে পরিণত করে।”

‘নির্মাতার নৌবাহিনী’তে ভারতের রূপান্তর:

১৯৬১ সালে GRSE-এর হাতে নৌবাহিনীর প্রথম দেশীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস অজয় নির্মিত হওয়ার পর থেকে ছয় দশক ধরে এই সম্পর্ক টিকে রয়েছে। আজ সেই সহযোগিতাই ভারত সরকারকে “ক্রেতার নৌবাহিনী” থেকে “নির্মাতার নৌবাহিনী”-তে রূপান্তরের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির বাস্তব প্রতিফলন।

সমুদ্রের তল মাপবে ১১০ মিটার লম্বা ‘ইক্ষাক’
১১০ মিটার লম্বা এই জাহাজটি নৌবাহিনীর জন্য অপরিহার্য জরিপ তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান কাজ: উপকূল, বন্দর ও গভীর সমুদ্রের তলদেশের পূর্ণাঙ্গ জরিপ পরিচালনা।

গুরুত্ব: নৌযান চলাচলের পথ নির্ধারণ এবং সমুদ্র সীমার পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত হবে।

বাণিজ্যিক সুবিধা: সংগৃহীত তথ্য ও মানচিত্র শুধু নৌবাহিনীর নয়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উন্নত সেন্সর ও যন্ত্রপাতি দ্বারা সজ্জিত এই জাহাজটি প্রয়োজনে মানবিক সাহায্য ও দুর্যোগ মোকাবিলা (HADR) অভিযানে ব্যবহার করা যাবে। জাহাজগুলিতে একটি হেলিকপ্টার রাখার ব্যবস্থা আছে এবং এগুলি উদ্ধার অভিযান ও হাসপাতাল জাহাজ হিসেবেও কাজ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কে. ত্রিপাঠি (PVSM, AVSM, NM); ভাইস অ্যাডমিরাল সমীর সাক্সেনা, ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ, সাউদার্ন ন্যাভাল কমান্ড; কমোডর পি.আর. হরি (অবসরপ্রাপ্ত), সিএমডি, GRSE-সহ নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ আধিকারিকরা।

কমোডর পি.আর. হরি (অবসরপ্রাপ্ত), সিএমডি, GRSE বলেন: “ইক্ষাকের কমিশনিং প্রমাণ করছে যে GRSE উন্নত সার্ভে ও রিসার্চ ভেসেল নির্মাণে ভারতের একমাত্র শিপইয়ার্ড। বর্তমানে আমরা আরও ১৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছি, যা প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতার ইতিহাসে আরেকটি গর্বের অধ্যায় যোগ করল।”