ভোটার তালিকার কাজে ‘তৃণমূলের নজরদারি’! বিএলএ আক্রান্ত হতেই ফুঁসে উঠলেন সুকান্ত, মমতাকে দিলেন ‘৩ হাজার ভোটের’ চ্যালেঞ্জ!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (Special Intensive Revision – SIR) কাজ শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হলো। গত মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর থেকে বাড়ি বাড়ি এন্যুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘নজরদারি’ এবং বিরোধী দলের বিএলএ (বুথ লেভেল এজেন্ট)-দের ওপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে এই সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি তুললেন।

‘বিএলএ আক্রান্ত হচ্ছেন, প্রমাণ হচ্ছে এই সরকারের মেয়াদ ফুরনোর অপেক্ষা’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বীরভূমের রামপুরহাটে দলের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি বিএলএ-রা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির প্রচুর বিএলএ-র উপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এটা প্রমাণ করছে যে এই অবস্থায় যদি এসআইআর হয়, তাহলে আগামীদিনে ভারতীয় জনতা পার্টির উপর আরও আক্রমণ হবে।”

এরপরই তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে এই মর্মে আবেদন জানানোর দাবি তোলেন। সুকান্ত বলেন, “এসআইআর করানোর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন যদি এই সরকারকে রেখে এসআইআর করাতে না পারে, তাহলে আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানাব— অপেক্ষা করুন, এই সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে তিন মাসের জন্য এসআইআর করান। তার পর ভোট করান। দেখবেন সব বাঁদর সোজা হয়ে যাবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর ফর্ম ফিলাপ নিয়ে কটাক্ষ ও ‘গুলশন কলোনি’ চ্যালেঞ্জ
রামপুরহাটে পথসভা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানান সুকান্ত মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ১৭টি এন্যুমারেশন ফর্ম যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সবার আগে ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেবেন, যদিও তিনি বলেছেন সব মানুষ ফর্ম না-দিলে নাকি তিনি জমা দেবেন না।

সুকান্ত মজুমদার এরপর মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান:

“গুলশন কলোনিতে আমি ধরে নিলাম এক লক্ষ লোক আছে। তিন হাজার ভোট আছে। মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, তিন হাজারের বেশি লোকের ফর্ম ফিলাপ করে দেখান এবং তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেখান। দেখি কত দম আছে আপনার। আপনি যদি এককথার মানুষ হন, তাহলে সত্যিই যেন ফর্ম ফিলাপ না-করেন। আপনার নাম যেন ভোটার তালিকায় না-থাকে।” – সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

অনুব্রতর ‘চরিত্র বদল’ ও জেলফেরত নেতার কটাক্ষ
সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলফেরত নেতা অনুব্রত মণ্ডলকেও তীব্র কটাক্ষ করেন। এসআইআর নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনুব্রত বলছে এসআইআর করুন ভালো করে। এসআইআর না করলে এনআরসি হয়ে যাবে… বিপদ হয়ে যাবে কিন্তু! অনুব্রত মণ্ডল বলছেন। কী গুণ জেলের দেখেছেন? আগে কী বলত— চড়াম-চড়াম, গুড়-বাতাসা। একবার মোদির জেল থেকে ঘুরে এসে চরিত্রই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এখন যাত্রা পালার বিবেক হয়ে গিয়েছে। বিবেকের মতো ভাষণ দিয়ে যাচ্ছে।”

এছাড়া, তিনি বীরভূমের রামপুরহাটের বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভাইপোর মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে হারাবার চ্যালেঞ্জ দেন।