“গ্রেফতারির ২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে….?”-পুলিশকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ!

কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পরেও বহু ক্ষেত্রে পুলিশ গ্রেফতারির কারণ জানায় না— এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার কঠোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বিআর গভাই ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহ-র বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে গ্রেফতারির দু’ঘণ্টার মধ্যে ধৃতকে তিনি যে ভাষা বুঝতে পারেন, সেই ভাষায় লিখিত ভাবে কারণ জানাতে হবে।
মুম্বইয়ের একটি ‘হিট অ্যান্ড রান’ মামলার জের ধরে বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক রায় দেয় শীর্ষ আদালত।
গ্রেফতারির কারণ লিখিতভাবে জানানোকে ধৃতের মৌলিক অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হলে তার কারণ যদি ধৃতকে না জানানো হয়, তা হলে তা তাঁর মৌলিক অধিকার হরণের সামিল। এই নির্দেশ দিতে গিয়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রেফতারির কারণ ধৃতের ভাষায় জানানো বাধ্যতামূলক।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ মানা না হলে গ্রেফতারি বেআইনি বলে গণ্য হবে:
১. লিখিত কারণ জানানোর বাধ্যবাধকতা: কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর আদালতের কাছে হাজির করার কমপক্ষে দু’ঘণ্টা আগে গ্রেফতারির কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
২. ব্যতিক্রম: যদি কোনও ক্ষেত্রে গ্রেফতারকারী অফিসার গ্রেফতারির মুহূর্তে লিখিত জানানোর অবস্থায় না থাকেন, তা হলে ধৃতকে ওই সময়েই মৌখিক ভাবে কারণ জানাতে হবে। কিন্তু তারপরেও, যত দ্রুত সম্ভব, তাঁকে আদালতে পেশ করার কমপক্ষে দু’ঘণ্টা আগে লিখিত ভাবে সেই তথ্য জানাতেই হবে পুলিশকে।
৩. ফলাফল: যদি এই সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ না জানানো হয়, তা হলে সেই গ্রেফতারি বেআইনি বলে চিহ্নিত হবে এবং ধৃতকে মুক্তি দিতে হবে।
এই কঠোর নির্দেশ শুধু পিএমএলএ বা ইউএপিএ (PMLA, UAPA) ধারায় নয়, বরং পূর্বতন ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মতো সব ধারায় গ্রেফতারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।