হোটেলের ঘরে দুই দিন আটকে রেখে, নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও গোপন ভিডিও ছড়ানোর হুমকি, পুলিশি জালে ২ অভিযুক্ত

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে সামান্য আলাপচারিতাই ডেকে আনল লখনউয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর জীবনে চরম পরিণতি। নতুন বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে তাকে দু’দিন ধরে হোটেলের ঘরে আটকে রেখে একাধিকবার গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরোজিনী নগর থানার পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক।

ইনস্টাগ্রাম থেকে আলাপ ও ফাঁদ: নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, বিমল যাদব নামে এক যুবকের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে আলাপ হয়েছিল তাঁর মেয়ের। প্রথমে চ্যাটিং এবং পরে ফোনে কথা বলার মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ নিবিড় হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ নভেম্বর। সেদিন নাবালিকা বিমল যাদবের সঙ্গে দেখা করতে যায়। সেখানে গিয়ে সে দেখে বিমলের সঙ্গে তার দুই বন্ধু— পীযূষ মিশ্র এবং শুভম শুক্লা — একটি স্করপিও এসইউভি (SUV) নিয়ে অপেক্ষা করছে।

হোটেলের ঘরে নারকীয় অত্যাচার: অভিযোগ, বিমল নাবালিকাকে লং ড্রাইভে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে তোলে। এরপর গাড়িতে উঠেই তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর একটি হোটেলের ঘরে তাকে চেক ইন করানো হয়। অভিযোগ, সেখানে তিন অভিযুক্ত পরপর নাবালিকার উপর চড়াও হয় এবং গণধর্ষণ করে। দু’দিন ধরে একাধিকবার চলে এই নারকীয় অত্যাচার।

নির্যাতিতার মা আরও জানান, ধর্ষণে বাধা দিলে নাবালিকাকে মারধর করা হয় এবং গোপন ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়া নাবালিকাকে অত্যাচারের পর অভিযুক্তরা বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশি তৎপরতা: ঘটনার পরই সরোজিনী নগর থানার পুলিশ পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত পীযূষ মিশ্র ও শুভম শুক্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত বিমল যাদব এখনও পলাতক। পুলিশ তাকে দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।