কোটিপতি হওয়ার সুযোগ! চা-দামের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে মাংস! দুর্গাপুরের যুবক চাষ করে কোটি টাকা কামাচ্ছেন ‘কালি মাসি’ মুরগিতে

মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া গ্রাম থেকে আসা এক বিশেষ প্রজাতির মুরগি এখন পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা ভারতে চাষের মাধ্যমে বিপুল মুনাফা এনে দিচ্ছে। এই মুরগির মাংসের রং কালো হওয়ায় এর নাম ‘কালি মাসি’ বা করকনাথ (Kharaknath)। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের এক যুবক ইতিমধ্যেই এই চাষ করে অবিশ্বাস্য সাফল্য লাভ করেছেন এবং এই ব্যবসায় মোটা লাভের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের প্রতাপপুরের বাসিন্দা অচিন্ত্য পাইন প্রায় পাঁচ বছর আগে করকনাথ মুরগির ফার্ম শুরু করেন। প্রথমে ভিন রাজ্য থেকে বাচ্চা এনে সঠিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করার পর, তিনি ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম ফুটিয়ে উৎপাদন বাড়ান। এখন তিনি অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বিক্রি করে বিপুল আয় করছেন।

অর্থকরী ফসল: অচিন্ত্যের দাবি, বাজারে এই মুরগির চাহিদা এতটাই বেশি যে তাকে মাংস বা ডিম বিক্রির জন্য বাজারের দোকানে ছুটতে হয় না; বরং মাংস বিক্রেতারাই সরাসরি ফার্ম থেকে তা সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

মাংসের দাম (পাইকারি/খুচরো): কেজি প্রতি ৬০০ টাকা।

কাটা মাংসের দাম (খুচরো বাজারে): কেজি প্রতি প্রায় ৮০০ টাকা।

ডিমের দাম: প্রতি পিস ২০ টাকা (জোড়া ৫০ টাকা)।

পুষ্টিবিদদের মতে, সাধারণ মুরগির তুলনায় করকনাথ মাংসে কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটের পরিমাণ (১.৯৪ শতাংশ) অনেক কম থাকে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রন থাকায় এর চাহিদা বাড়ছে।

অচিন্ত্য পাইন জানিয়েছেন, বাজারের চাহিদা মেটাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে, তাই তিনি ভবিষ্যতে তাঁর ফার্ম আরও বড় আকারে করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, দুর্গাপুরের কেউ যদি এই ফার্মিং শুরু করতে চান, তবে তাঁর কাছ থেকেই ‘কালি মাসি’র বাচ্চা পাওয়া যাবে।