SIR-এর ফর্ম ছিনিয়ে ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ, নিয়ম ভাঙায় ২ BLO-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ

পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ চললেও, রাজনৈতিক বিতর্ক, হিংসার অভিযোগ এবং নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO)। একাধিক জায়গা থেকে ফর্ম বিলিতে বাধা, হেনস্থা এবং কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
⚠️ কোচবিহার: ফর্ম ছেঁড়া ও মারামারির অভিযোগ
কোচবিহারের শীতলকুচির বোরো কাইমারি পঞ্চায়েত এলাকায় SIR ফর্ম বিলি করতে গিয়ে মঙ্গলবার চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ফর্ম ছেঁড়া: ১৬০ নম্বর বুথের BLO প্রতীমা পাল অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু যুবক অভদ্রভাবে কথা বলে তাঁদের হাত থেকে এনুমারেশন ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে।
রাজনৈতিক তরজা: স্থানীয় তৃণমূলের চেয়ারম্যান সুশান্ত পাল এই ঘটনার জন্য বিজেপি-কে দায়ী করে বলেন, জোর করে ফর্ম দেখার টানাটানিতেই তা ছিঁড়েছে। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিজেপি কর্মীকে আটক: অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা মত্ত অবস্থায় ফর্ম বিলিতে সাহায্য করতে যাওয়া এক বিজেপি বুথ এজেন্ট সুব্রত পালকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে সুব্রত পালের দাবি, তৃণমূল সমর্থকরা তাঁকে আটকায়।
এই গোটা ঘটনা BLO-র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
🚨 আসানসোল: নিয়ম না মানায় কড়া পদক্ষেপ
কুলটি বিধানসভা এলাকার নিয়ামতপুরে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন না মানার অভিযোগে ২ জন BLO-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছেন জেলাশাসক।
অভিযোগ: ৯৯ এবং ১০০ নম্বর বুথের দায়িত্বে থাকা ওই দুই BLO কারও বাড়ি না গিয়ে অস্থায়ী মিনি ক্যাম্প তৈরি করে ফর্ম বিলি করছিলেন।
জেলাশাসকের বার্তা: জেলাশাসক এস পুন্নামলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন হওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত BLO চৈতালী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁরা সাততলা বিল্ডিংয়ের প্রতিটি বাড়িতেই গিয়েছিলেন, শুধু মাঝে এক ঘণ্টা নীচে বসেছিলেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।
📝 হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা: ফর্মের ঘাটতি ও হেনস্থা
হুগলি (ফর্মের ঘাটতি): চুঁচুড়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এনুমারেশন ফর্মের ঘাটতি। BLO সায়ক ভট্টাচার্য জানান, মাত্র ৫০টি ফর্ম দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে ফর্মের সরবরাহ নেই।
উত্তর ২৪ পরগনা (রাজনৈতিক হিংসা): ব্যারাকপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের BLO বিশ্বজিৎ কর অভিযোগ করেছেন, তাঁকে তৃণমূলের কর্মীরা হুমকি দিয়েছে এবং গায়ে হাত তুলেছে। যদিও স্থানীয় তৃণমূল পুর চেয়ারম্যান উত্তম দাস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা অর্জুন সিং কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।