১১ কোটির বিশাল দুর্নীতি! নতুন বলে পুরনো কম্পিউটার গছানোর ঘটনায় পর্দা ফাঁস করল ইওডব্লিউ

মধ্যপ্রদেশের সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে এক বিরাট অঙ্কের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করেছে রাজ্য অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা (EOW)। সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস বা জিইএম (GeM) পোর্টালের মাধ্যমে পুরনো কম্পিউটারকে একেবারে নতুন বলে চালিয়ে দেওয়া এবং অত্যন্ত নিম্নমানের ও নির্ধারিত মানের তুলনায় কম দামের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম চড়া দামে সরবরাহ করার মাধ্যমে প্রায় ১০.৯৯ কোটি টাকার একটি বিশাল ক্রয় কেলেঙ্কারির হদিশ মিলেছে। বৃহস্পতিবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। সামাজিক ন্যায় ও দিব্যাঙ্গজন ক্ষমতায়ন দফতরের অধীনে সম্পাদিত এই কেনাকাটায় চরম অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত মোট চার জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।
ইওডব্লিউ-এর মহাপরিচালক উপেন্দ্র জৈন সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে এক অবাক করা তথ্য সামনে এসেছে। দেখা গেছে, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত চারটি আলাদা নামে পরিচালিত কোম্পানি মূলত একজন একক ব্যক্তির দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত হতো। কিন্তু জিইএম পোর্টালে বিভিন্ন দরপত্র বা টেন্ডারে এমনভাবে অংশ নেওয়া হয়েছিল যাতে সাধারণ দৃষ্টিতে সেগুলোকে একে অপরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী বা আলাদা সত্তা বলে মনে হয়। কিন্তু গভীরে গিয়ে দেখা যায়, এই সমস্ত জাল কোম্পানিগুলো রেজিস্ট্রেশনের জন্য একই মোবাইল নম্বর ব্যবহার করছিল, যা আবার একটিমাত্র যৌথ জিএসটি অ্যাকাউন্টের অধীনে নিবন্ধিত ছিল। এমনকি তাদের কর্পোরেট ইমেল আইডি এবং অফিসের ভৌত ঠিকানাও ছিল সম্পূর্ণ এক।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, এই ভুয়া কোম্পানিগুলো নিয়মের তেড়োয়ার এড়িয়ে একই সঙ্গে টেন্ডারে অংশ নিত এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য নামী বহুজাতিক প্রস্তুতকারক সংস্থার জাল অথরাইজেশন লেটার বা প্রাধিকারপত্র জমা দিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো চরম ধূর্ততার পরিচয় দিয়ে একই পুরনো কম্পিউটারকে একাধিক ভিন্ন টেন্ডারে নতুন ডিভাইস বলে সরবরাহ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বিশেষ মামলায় দেখা গেছে যে গত বছরের জুলাই মাসে সরবরাহ করা পুরনো কম্পিউটারগুলোকে ফের সেপ্টেম্বর মাসের দরপত্রে সম্পূর্ণ নতুন যন্ত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, যন্ত্রাংশের নির্দিষ্ট কনফিগারেশনেও মারাত্মক গরমিল ধরা পড়েছে। স্থানীয় বাজার থেকে অত্যন্ত কম দামে কেনা নিম্নমানের র্যাম (RAM) এবং এসএসডি (SSD) কম দামে জোগাড় করে তা উচ্চমূল্যের স্পেসিফিকেশনের নামে গছানো হয়েছিল।
তদন্তে আরও দেখা গেছে যে, সরকারি দফতর থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বহুগুণ বেশি মূল্যে জিনিস কেনা হয়েছে। যেমন, বাজারে বা জিইএম পোর্টালে যে ইউপিএস-এর (UPS) দাম ছিল মাত্র ৩,৭৫৪ টাকা এবং যার গায়ে এমআরপি ছিল ৬,০৮৬ টাকা, সেটি ক্রয় করা হয়েছে একেবারে আকাশছোঁয়া ১১,২৪৭ টাকা দামে। সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক সংস্থাও তদন্তকারী সংস্থাকে লিখিতভাবে জানিয়েছে যে টেন্ডারে যে নির্দিষ্ট মডেলের কথা বলা হয়েছিল, আদতে তার কোনো সরবরাহ করা হয়নি। এই সমস্ত জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করার কড়া সুপারিশ করেছে ইওডব্লিউ। গত ১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর সংশ্লিষ্ট কঠোর ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।