আমেরিকার রাজনীতিতে ঐতিহাসিক জয় পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও আক্রমণ সত্ত্বেও তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপাদমস্তক বামপন্থী এই নেতার জয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
নির্বাচনের আগে ট্রাম্প মামদানিকে ‘ভয়ানক চেহারা’, ‘কণ্ঠস্বর যন্ত্রণাদায়ক’, ‘বুদ্ধি কম’ এবং ‘অপদার্থ’ বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ৩৪ বছর বয়সে জয়ী হয়ে মামদানি ট্রাম্পের সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিলেন।
রেকর্ড গড়েছেন মামদানি:
জোহরান মামদানি একাধারে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছেন:
তিনি গত ১০০ বছরের মধ্যে নিউইয়র্কের সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র।
তিনিই নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মুসলিম ধর্মাবলম্বী মেয়র।
জন্মসূত্রে গুজরাতি মুসলিম মামদানির সঙ্গে ভারতের গভীর যোগ রয়েছে। তাঁর মা বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার। যদিও তাঁর জন্ম আফ্রিকায়, কৈশোর থেকেই তিনি নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।
জয়ের পর মামদানি একটি প্রতীকী পোস্ট করেছেন। মেট্রোরেলের দরজা খোলার পর সিটি হল (মেয়রের অফিস) লেখা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এবং দেওয়ালে লেখা রয়েছে “জোহরান ফর নিউ ইয়র্ক সিটি”।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অভিনন্দন:
মেয়র নির্বাচনে মামদানি নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো (নির্দল) এবং রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়া-কে পরাজিত করেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ওবামা পোস্টে লেখেন, “জয়ী সকল ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের অভিনন্দন। এটাই প্রমাণ করে যে যখন আমাদের শক্তিশালী এবং দূরদর্শী নেতারা থাকবেন, যাঁরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির প্রতি যত্নশীল হবেন, তখন আমরা জয়ী হতে পারব।”
মামদানির প্রধান লক্ষ্য:
জোহরান মামদানি তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখেছেন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর এজেন্ডায় যা রয়েছে:
২ লক্ষ পাবলিক হাউজিং ইউনিট নির্মাণ।
সব শিশুর সার্বিক যত্ন (Universal Child Care) নিশ্চিত করা।
টিউশন-মুক্ত শিক্ষা প্রদান।
বাসের ভাড়া তুলে দেওয়া (বাস রাইড ফ্রি করে দেওয়া)।
এখন দেখার, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কট্টর বামপন্থী নেতা নিউইয়র্ক সিটিকে কীভাবে নতুন পথে পরিচালিত করেন।





