‘কাট্টা, ক্রুরতা, কটুতা, কুশাসন, কোরাপশন’! ৫টি ‘ক’ দিয়ে লালু-রাবড়ির গুন্ডারাজ ব্যাখ্যা করলেন মোদী, নিশানা রাহুলকেও

রাহুল গান্ধীর প্রচারের পরদিনই মুজফফরপুরে এসে কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) গুন্ডারাজ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিহারের মূল উৎসব ছট পুজো নিয়েও রাজনীতিতে পাশা চাললেন মোদী।

পাঁচটি ‘ক’ দিয়ে গুন্ডারাজের ব্যাখ্যা:

বৃহস্পতিবার মুজফফরপুরের জনসভায় মোদী লালুপ্রসাদ যাদবের জমানার গুন্ডারাজের তুলনা টেনে বলেন, কংগ্রেস ও আরজেডি পাঁচটি ‘ক’-এর উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে। সেই পাঁচটি ‘ক’ হল— কাট্টা (দেশি ওয়ানশটার), ক্রুরতা, কটুতা, কুশাসন ও কোরাপশন (দুর্নীতি)।

মোদী ব্যাখ্যা করে বলেন, “যেখানে কাট্টা আছে, সেখানেই ক্রুরতা জন্ম নেয়। আর সেখান থেকেই তৈরি হয় আইনশৃঙ্খলার ভেঙে পড়া।” তিনি লালু জমানার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে অভিযোগ করেন, “৩৫-৪০ হাজার অপহরণ হয়েছিল একসময় এই রাজ্যে। গুন্ডারা গাড়ির শোরুম লুট করে বেড়াত। কারণ তাদের পিছনে ছিল সরকার।” তিনি আরও বলেন, আরজেডি-কংগ্রেসের সমাবেশে যে গান বাজে, তাতেও কাট্টা-দোনালির মতো অস্ত্রের কথা থাকে, যা কল্পনা করা যায় না।

ছট পুজোকে ইউনেস্কো তকমা দেওয়ার চেষ্টা:

বিহারের মানুষের আবেগ, ছট পুজোকে সামনে রেখে মোদী বলেন, তাঁর সরকার এই উৎসবকে ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী উৎসবের তকমা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, তিনি অভিযোগ করেন, আরজেডি-কংগ্রেস ক্ষমতায় বসার জন্য ছটি মাইয়াকেও রাজনীতিতে টেনে আনছে।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ খণ্ডন:

রাহুল গান্ধীর নাম না করেই মোদীকে নিয়ে তাঁর অভিযোগ খণ্ডন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারাই দেখুন ভোটের জন্য কত নীচে নামতে পারে এরা। এটা শুধু আমাকে অপমান নয়, বিহারের মানুষের ভক্তিকে অশ্রদ্ধা করা।”

আরজেডি এবং কংগ্রেসের সম্পর্ককে প্রধানমন্ত্রী তেল-জলের সম্পর্ক বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ওদের মিলজুল হয়েছে কেবল ক্ষমতা দখলের জন্য, যাতে ওরা দুজনে মিলে বিহারকে আবার লুট করতে পারে।

মুজফফরপুরের পর ছাপরাতেও জনসভা করেন মোদী। তিনি বলেন, কংগ্রেস সুপরিকল্পিতভাবে আরজেডির ক্ষতি করতে নেমেছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের আস্তানা করে দিতে রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগাচ্ছে। মোদী হুঁশিয়ারি দেন, “আমরা বলে দিচ্ছি, একটিও অনুপ্রবেশকারীকে এদেশে থাকতে দেব না।”