কর্ণাটকের চিক্কমাগালুরু জেলার কপ্পা তালুকের বাসারিকাট্টে গ্রামের কাছে ঘটেছে এক রোমহর্ষক ও নির্মম ঘটনা। এক ২৫ বছর বয়সী সরকারি স্কুলের শিক্ষিকাকে গাছে বেঁধে নগ্ন করে পিটিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এই ভয়াবহ ঘটনায় গোটা এলাকা স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ।
স্কুল থেকে ফেরার পথে হামলা:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত তরুণী কোগরে শান্তিগ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় বাসারিকাট্টে গ্রামের সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁর পথ রোধ করে আক্রমণ চালায়। অভিযোগ, তারা তাঁকে জোর করে গাছে বেঁধে নগ্ন করে নির্মমভাবে মারধর করে।
শিক্ষিকার চিৎকারে আশপাশের গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষিকাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শিবমোগ্গার মেগগান হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল, তবে তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত ও আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন।
তদন্তে নেমেছে একাধিক দল:
ঘটনার খবর পেয়ে জয়াপুরা থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যে ডিএসপি-সহ পুলিশ আধিকারিকরা পরিদর্শন করেছেন। অপরাধীদের শনাক্ত করতে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল টাওয়ারের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে কারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিবাদ ছিল না। ফলে পুলিশ এটি পরিকল্পিত বা প্রতিশোধমূলক হামলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
এই নৃশংস ঘটনায় শিক্ষক সংগঠন, মহিলা সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কপ্পা অঞ্চলের শিক্ষক সংগঠনের এক সদস্য বলেছেন, “এটি শুধু এক মহিলার উপর আক্রমণ নয়, এটি সমাজে নারী নিরাপত্তা নিয়ে এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা। বিশেষ করে যেসব মহিলা শিক্ষক প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
অপরাধীদের পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। তবে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, দোষীরা যেই হোক, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।





