উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) একটি গ্রামে বিয়েতে আর ইচ্ছে মতো সোনার গয়না পরে সাজা যাবে না। গ্রামের পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনও কনে বিয়েতে তিনটির বেশি সোনার গয়না পরতে পারবেন না। কেউ এই নিয়ম ভাঙলে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।
এই নিয়মটি আনা হয়েছে গ্রামে অযথা প্রতিযোগিতা, দেখনদারি এবং হিংসার ঘটনা বন্ধ করতে। পঞ্চায়েতের বক্তব্য, আজকাল অনেক পরিবার সামাজিক মান বজায় রাখতে ঋণ নিয়ে সোনার গয়না কিনছে। এতে বিশেষ করে পাত্রীর পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। তাই সমাজে সমতা ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত।
বিয়েতে মাত্র তিনটি গয়না:
ঘটনাটি দেরাদুন জেলার ইন্দ্রানী গ্রামে, যা যমুনা ও টন নদীর মাঝে অবস্থিত জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চলের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। সম্প্রতি গ্রামের প্রবীণরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, বিয়েতে কনে শুধু তিনটি গয়না পরতে পারবেন: এক জোড়া কানের দুল, একটি নাকের দুল (নথ) ও একটি মঙ্গলসূত্র। এর বাইরে অন্য কোনও সোনার গয়না পরে অনুষ্ঠানে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গ্রামের প্রবীণ সদস্য অর্জুন সিং জানিয়েছেন, “সোনার দাম এখন খুব বেশি। অনেকে বাধ্য হয়ে ঋণ নিয়ে সোনা কেনেন। এতে সংসারে ঝামেলা ও মানসিক চাপ বাড়ে। তাই এই নিয়ম সেই বোঝা কিছুটা কমাবে।”
মহিলাদের সমর্থন ও পাল্টা দাবি:
গ্রামের মহিলারাও এই নিয়মকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁদের অনেকে বলছেন, “যদি মেয়েদের গয়না পরায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়, তবে পুরুষদের মদ্যপানেও নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। পাশাপাশি বিয়েতে দামি উপহার দেওয়া-নেওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা দরকার।”
পঞ্চায়েতের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য সমাজে শান্তি, সমতা ও সংযম বজায় রাখা। তাঁদের বার্তা, “বিয়ে কোনও প্রতিযোগিতা নয়, এটি জীবনের নতুন অধ্যায়। তাই অহংকার নয়, সরলতাই হোক সমাজের অলঙ্কার।”





