আবারও ভোটগ্রহণ বাংলায়? কয়েক ডজন কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা, দিল্লির গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট মিটলেও এখনই যবনিকা পড়ছে না নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগে রাজ্যের বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে ফের ভোটগ্রহণ হতে পারে। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠিয়েছে রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর (CEO Office)।

কেন এই পুনর্নির্বাচনের তোড়জোড়? রাজ্য জুড়ে ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে কমিশন দাবি করলেও, বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি একাধিক বুথে ছাপ্পা ভোট এবং বুথ দখলের অভিযোগ তুলেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের (DEO) কাছ থেকে আসা রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বেশ কিছু বুথে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন।

তালিকায় কোন কোন কেন্দ্র? যদিও কমিশনের তরফে এখনও নির্দিষ্ট বুথ বা কেন্দ্রের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে সূত্রের খবর:

  • উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু বুথে নতুন করে ভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

  • বসিরহাট ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার অন্তর্গত কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রেও পুনর্নির্বাচন হতে পারে।

  • বিরোধীদের পাঠানো ভিডিও ফুটেজ ও প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরি মিলিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কমিশন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিল্লির হাতে: রাজ্য থেকে পাঠানো এই প্রস্তাব এখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের স্ক্রুটিনিতে রয়েছে। দিল্লির নির্বাচন সদন সবুজ সংকেত দিলেই পুনর্নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। সাধারণত ৪ মে ভোট গণনার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে আগামীকালের মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।

উত্তেজনায় ফুটছে রাজনৈতিক মহল: পুনর্নির্বাচনের এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে পারদ চড়েছে রাজনৈতিক মহলে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, “হার নিশ্চিত জেনেই বিজেপি কেন্দ্রীয় কমিশনকে দিয়ে ভোটের নামে প্রহসন করছে।” অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা বক্তব্য, “যেখানে যেখানে ছাপ্পা হয়েছে, সেখানে পুনর্নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমরা গণনায় অংশ নেব না।”

এখন দেখার, দিল্লির নির্দেশে বাংলার কতগুলি বুথে আবারও ভোটারদের আঙুলে কালির ছাপ পড়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy