সিংহাসন নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ—ভারতের অন্যতম বৃহৎ মহাকাব্য মহাভারতের রোমহর্ষক সব দৃশ্য এবার দুর্গাপুরের জগদ্ধাত্রী পুজোর থিমে ফুটে উঠেছে। দুর্গাপুর অরবিন্দ স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন ক্লাব এই বছর তাঁদের ৩০ তম বর্ষের পুজোতে চোখধাঁধানো থিম গড়ে দর্শনার্থীদের তাক লাগাচ্ছে। বর্তমানে দুর্গাপুরের বিগ বাজেট জগদ্ধাত্রী পুজোগুলির মধ্যে এই ক্লাবের পুজো অন্যতম।
মণ্ডপে মহাভারতের আখ্যান:
পুজো উদ্যোক্তাদের দাবি, এই বছর তাঁদের পুজোর থিম ‘মহাভারত’ বিশেষ নজর কাড়ছে। বাঁশ ও কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করে নবদ্বীপের শিল্পী এক অসাধারণ মণ্ডপ তৈরি করেছেন, যেখানে মহাভারতের নানা চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশাল মণ্ডপের ভেতর প্রবেশ করেই দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হচ্ছেন।
মণ্ডপে মহাভারতের কাহিনীর আদিপর্ব থেকে শুরু করে সভাপর্ব, পাণ্ডবদের রাজসূয় যজ্ঞের বর্ণনা, এবং অন্যতম মর্মস্পর্শী ঘটনা দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের দৃশ্যও বর্ণিত আছে। এছাড়াও পাণ্ডবদের বনবাসের কাহিনি, ভীষ্মপর্ব, দ্রোণপর্ব তথা দ্রোণাচার্যের যুদ্ধ ও পতন দেখানো হয়েছে। শেষে মহাপ্রস্থানিক পর্বে পাণ্ডবদের শেষযাত্রার চিত্রও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ছোট-বড় সকলের কাছেই এই মণ্ডপটি একটি জীবন্ত পাঠশালার মতো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান:
আকর্ষণীয় মণ্ডপ ও চন্দননগরের শিল্পীর হাতে গড়া ডাকের সাজের অপরূপ জগদ্ধাত্রীর প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের মতো দুর্গাপুরের স্টিল টাউনশিপের শিবাজী এলাকা যেন একটুকরো কৃষ্ণনগর বা চন্দননগর হয়ে উঠেছে। ওই পুজো কমিটির আকর্ষণীয় থিমের পাশাপাশি অত্যাধুনিক আলোকসজ্জায় মণ্ডপ চত্বর আলোকিত হয়ে ওঠে। পুজোর চার-পাঁচ দিন ধরে মণ্ডপ চত্বরে অস্থায়ী মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।





