বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি ও কলকাতা—ভারতের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ মহানগরীর ঘুম ভাঙল ঘন ধোঁয়াশার (Smog) মধ্যে। রাতারাতি বাতাসের মান ভয়ঙ্করভাবে খারাপ হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কলকাতার গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৪৮ ছুঁয়েছে, যা সরাসরি “Very Poor” শ্রেণিতে পড়ে। অন্যদিকে, দিল্লির সার্বিক AQI ছিল ৩৫২, যা কলকাতার মতোই ‘খুবই খারাপ’ বা ‘Very Poor’ শ্রেণির মধ্যে পড়ে।
দিল্লির পরিস্থিতি ও ক্লাউড সিডিং ব্যর্থতা:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আইআইটি কানপুরের সহযোগিতায় দিল্লি সরকার যে ক্লাউড সিডিং বা মেঘে রাসায়নিক প্রয়োগ করে কৃত্রিম বৃষ্টি ঘটানোর পরীক্ষা চালিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল আর্দ্রতার অভাব। পরীক্ষার সময় বাতাসে মাত্র ১০–১৫ শতাংশ আর্দ্রতা ছিল, যেখানে সফল ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য ন্যূনতম ৫০–৬০ শতাংশ আর্দ্রতা প্রয়োজন। ফলস্বরূপ, প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে AQI ৩০০–৪০০-র মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
দিল্লির ৩৮টি মনিটরিং স্টেশনের মধ্যে ৩২টিতেই বাতাসের মান ছিল ‘খুবই খারাপ’। বিবেক বিহার (AQI ৪১৫) ও আনন্দ বিহার (AQI ৪০৯) ‘সিভিয়ার’ স্তরে পৌঁছেছে।
কলকাতাতেও নীরব মৃত্যু:
দিল্লির পিছু পিছু কলকাতা এখন ভয়াবহ সংকেতের দিকে এগোচ্ছে। শহরের বেশিরভাগ মনিটরিং স্টেশনই লাল সংকেতে। বালিগঞ্জ, যাদবপুর, বিধাননগর ও ভিক্টোরিয়া অঞ্চলে AQI ৪০০ ছুঁয়েছে—অর্থাৎ “Severe”। পিএম ২.৫ কণার পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ৫০০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত উঠেছে, যা নিরাপদ সীমার ২০ গুণ বেশি।
পরিবেশবিদদের মতে, কলকাতার এই বাড়তি দূষণের জন্য দায়ী তিনটি প্রধান কারণ—গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, খোলা নির্মাণক্ষেত্রের ধুলো এবং উৎসব মরশুমে বাজির অতিব্যবহার। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বলেন, “আমরা নিজেদের কবর নিজেরাই খুঁড়ছি। উন্নয়নের নামে শহরটাকে গ্যাস চেম্বারে পরিণত করছি।” IQAir-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় কলকাতার অবস্থান অষ্টম।
পুরসভার উদ্যোগ ও সমাধানের পথ:
কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে জল ছিটিয়ে ও রোড ওয়াশিং শুরু করেছে। ২০টি ওয়াটার স্প্রিংকলার ও দুটি মিস্ট ক্যানন শহরজুড়ে ঘুরছে। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, “কলকাতার বাতাসের মান এখনও তুলনামূলক ভালো, কিন্তু ঢিল দিলে সেই জায়গা থেকেও নামতে সময় লাগবে না। সচেতনতা এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।”
বিশেষজ্ঞরা দূষণ রোধে বট, অশ্বত্থ বা আমলকি-র মতো বড় পাতার গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এরা বেশি কার্বন শোষণ করে বাতাস পরিশুদ্ধ করতে পারে।





