গণধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার নির্যাতিতার সহপাঠী! ‘সন্দেহের তালিকা’ থেকে সরাসরি অভিযুক্তের কাঠগড়ায় ওয়াসেফ আলি

দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে অবশেষে গ্রেফতার হলেন নির্যাতিতার সেই সহপাঠী। মঙ্গলবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি মেলার পরই মালদার বাসিন্দা ওয়াসেফ আলিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রথম থেকেই এই এমবিবিএস পড়ুয়ার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবাও।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত সহপাঠীকে বুধবার আদালতে পেশ করা হবে। তার আগে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হবে।

যে কারণে সন্দেহের কেন্দ্রে ছিলেন সহপাঠী
নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসেফ আলির গতিবিধি এবং বক্তব্যের মধ্যে যে অসঙ্গতি ছিল, তা সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানত এই বিষয়গুলির সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি:

১. পালালেন কেন? জিজ্ঞাসাবাদে সহপাঠী দাবি করেন, শুক্রবার সন্ধে ৭টা ৫৮ মিনিটে তাঁরা কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে রাতের খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। মোহনবাগান অ্যাভিনিউয়ে ৩ জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ালে, পরিস্থিতি বুঝে তিনি নাকি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
২. ক্যাম্পাসে ফিরে নীরবতা: রাত ৮টা ৪২ মিনিটে সহপাঠী একাই ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। পুলিশ জানতে চেয়েছিল, বন্ধু বিপদে পড়েছেন জেনেও তিনি কেন ক্যাম্পাসে থাকা কাউকে ঘটনার কথা জানাননি বা পুলিশকে খবর দেননি? এই প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
৩. পরবর্তী গতিবিধি: এরপর রাত ৮.৪৮ মিনিট নাগাদ তিনি আবার ক্যাম্পাসের বাইরে যান, যদিও ঠিক ৪১ মিনিট পর নির্যাতিতার সঙ্গে তিনি একসঙ্গেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

পুলিশ সূত্রে দাবি, মালদার বাসিন্দা ওয়াসেফ আলির বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি থাকার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথম থেকেই নির্যাতিতার বাবাও সংবাদমাধ্যমের সামনে সহপাঠীর ভূমিকার উপর সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

এদিকে, মঙ্গলবার নির্যাতিতা ছাত্রীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং তার ভিত্তিতেই এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় এলো বলে মনে করা হচ্ছে।