অ্যাস্ট্রা মার্ক ২ মিসাইলের পাল্লা ২০০ কিমি ছাড়ানোর প্রস্তুতি, আকাশ যুদ্ধে আধিপত্য বজায় রাখতে ডিআরডিও-র বড় পদক্ষেপ

ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের পারস্পরিক সমঝোতা ও সামরিক সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করতে একটি যৌথ বিমান মহড়া চালিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) এবং রয়্যাল নেভি। এই মহড়ায় দুই দেশেরই একাধিক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও নজরদারি প্ল্যাটফর্ম অংশ নেয়।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর ২৫) অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে সুখোই-৩০ এমকেআই, জাগুয়ার ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS), এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) এয়ারক্রাফ্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল। রয়্যাল নেভির পক্ষ থেকে, এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলস (HMS Prince of Wales) যুদ্ধজাহাজ থেকে পরিচালিত এফ-৩৫বি ফাইটার জেটগুলি এই সমন্বিত মিশনে অংশ নেয়।
মহড়ার বিশদ বিবরণ এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ শেয়ার করে ভারতীয় বায়ুসেনা লিখেছে, এই প্রশিক্ষণ পারস্পরিক সমঝোতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অ্যাস্ট্রা মার্ক ২: পাল্লায় নতুন রেকর্ড
এদিকে, সামরিক প্রস্তুতিতে বড়সড় অগ্রগতি এনেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)। ভারতীয় প্রতিরক্ষা আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন যে DRDO তার অ্যাস্ট্রা মার্ক ২ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের পাল্লা ২০০ কিলোমিটারের বেশি বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি পূর্ববর্তী পরিকল্পনার তুলনায় একটি বড় আপগ্রেড, যেখানে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পাল্লার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল।
মূল তথ্য:
অধিগ্রহণ: প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিশদ প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতীয় বায়ুসেনা প্রায় ৭০০টি অ্যাস্ট্রা মার্ক ২ মিসাইল অধিগ্রহণ করতে চলেছে।
ব্যবহার: এই মিসাইলগুলি বায়ুসেনার সুখোই এবং লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট ফাইটার জেট বহরে লাগানো হবে।
লক্ষ্য: ভারত এই অঞ্চলে ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ কমব্যাটে’ (Beyond Visual Range Combat) নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে দেশীয় প্রযুক্তিতে দীর্ঘ পাল্লার এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল তৈরির কাজ করছে।
মিসাইলের আগের সংস্করণ অ্যাস্ট্রা মার্ক ১-এর পাল্লা ১০০ কিলোমিটারের বেশি। ডিআরডিও-র বিভিন্ন গবেষণাগার ছাড়াও, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড সহ ৫০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি শিল্প এই অস্ত্র ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অবদান রেখেছে।