আমেরিকা-ইংল্যান্ডকে টক্কর! ‘জার্মানিতে মাস্টার্স করুন মাত্র ১৫ হাজার ইউরোতে’, ভারতীয় ছাত্রদের জন্য নতুন দিগন্ত

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে এখন জার্মানি (Germany) এক নতুন গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। সম্প্রতি টিভি নাইন নেটওয়ার্কের গ্লোবাল সামিট ‘Global Education Reset: Opportunities To Study In Germany’ শীর্ষক আলোচনায় জার্মান ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
জার্মানিতে খরচ কম, শিক্ষার মান অনেক বেশি
স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট এবং বিজনেস প্ল্যানিংয়ের অধ্যাপক ডঃ ডিটমার হিলপার্ট আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন:
“আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যালোচনা করেছি। আমি মনে করি না এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রভাব আর খুব বেশিদিন থাকবে, কারণ জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার মান অনেক বেশি ভালো।”
খরচের দিক থেকেও তিনি একটি বড় পার্থক্য তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ১ লক্ষ ডলার খরচ হয়, সেই একই মানের ডিগ্রি পেতে জার্মানিতে খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার ইউরোর আশেপাশে।
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে
জার্মানিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা তুলে ধরেন ফিন্টিবা জিএমবিএইচ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোনাস মার্কগ্রাফ। তিনি বলেন, গত বছর থেকেই জার্মানিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে।
বর্তমান চিত্র: এই বছর ভারত থেকে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী জার্মানিতে এসেছেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংখ্যা খুব তাড়াতাড়ি ৫০ হাজারে পৌঁছবে।
গবেষণা ও কাজের বাজারে সুযোগ
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, জার্মানি শুধুমাত্র কম খরচে মানসম্মত শিক্ষাই দেয় না, বরং শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি কাজের বাজারেও প্রচুর সুযোগ দেয়।
স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যারিয়ন হক এবং বারমার হেলথ ইনস্যুরেন্সের মার্ক মাইকেলিস সহ অন্যান্য প্যানেলিস্টরা জার্মানিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য অপরিসীম সুযোগের কথা তুলে ধরেন।
আরভি ইনস্টিটিউশনের সভাপতি এমপি শ্যাম উল্লেখ করেন, বর্তমানে জার্মানিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
সামিটে উপস্থিত সকলের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে, গুণগত মান, কাজের সুযোগ এবং সাশ্রয়ী ব্যয়ের কারণে জার্মানি এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।