চা বাগানে পুজোর আগে ধামাকা! আন্দোলন ছাড়াই সোজা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ২০ শতাংশ বোনাস?

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে প্রতি বছরই ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে এক চেনা ছবি দেখা যেত—বকেয়া বা বাড়তি বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের গেট মিটিং, বিক্ষোভ কিংবা দীর্ঘ রাস্তা অবরোধ। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলতি বছরে যেন সেই পুরনো ও চেনা ছক সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। কোনো রকম আন্দোলন বা বিক্ষোভের সুনির্দিষ্ট পথ বেছে নেওয়ার আগেই রাজ্যের চা শ্রমিকদের জন্য এককালীন ২০ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করা হয়েছে। এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন প্রান্তের চা বাগানগুলিতে পুজোর ঠিক প্রাক্কালে উৎসবের খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
গত বছরগুলিতে পুজোর মরশুম আসার আগে বোনাসের চুক্তি বা ঘোষণা নিয়ে মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে বিস্তর টালবাহানা চলত। সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট রূপরেখা পেতে অনেক সময় জটিলতা তৈরি হতো। যার জেরে শ্রমিকদের বাধ্য হয়েই পুজোর আনন্দ ভুলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হতো। তবে এবার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। পুজোর বেশ কিছুটা আগেই কুড়ি শতাংশ বোনাস ঘোষণা হওয়ায় লক্ষাধিক চা শ্রমিকের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়েছে। জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে ছোট ও বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলির সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার পরিবারের কাছে পুজোর এই বোনাসের টাকা জীবনরেখার সমান। কারণ, বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থে তাঁরা পরিবারের পুজো কেনাকাটা থেকে শুরু করে ঘর মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে থাকেন।
চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বলছে, প্রতি বছরই পুজোর আগে বোনাস পাওয়া নিয়ে একটা মানসিক দুশ্চিন্তা ও টানাপোড়েন লেগেই থাকত। এবার সেই উৎকণ্ঠা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। কোনো রকম ঝামেলা বা আন্দোলন ছাড়াই সরাসরি কুড়ি শতাংশ বোনাস ঘোষণা হওয়ায় শ্রমিকরা দারুণ খুশি। একইসঙ্গে নতুন সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরা রাজ্য প্রশাসনকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, আসন্ন দুর্গোৎসবের আগে এই আর্থিক স্বস্তি ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে। নতুন পোশাক কেনা, ভালো-মন্দ খাওয়া-দাওয়া এবং ঘরদোর সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই উৎসবের মেজাজে সেজে উঠেছে পাহাড়ি ঘেরাটোপের জনপদগুলি।