“বন্যার জলে ভেসে গন্ডার নিখোঁজ!”-গরুমারা জাতীয় উদ্যানে নিখোঁজ আরও বহু বন্যপ্রাণী

ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির পর গরুমারা জাতীয় উদ্যানে বিপর্যয়ের চিহ্ন এখন স্পষ্ট। বন্যার জলে ভেসে গিয়ে একাধিক বন্যপ্রাণী নিখোঁজ হওয়ার পর এখন একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে জলঢাকা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়া একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি গন্ডারের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে আরও একটি গন্ডারের মৃতদেহ মিলেছিল, তবে বন দফতর এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না মোট কতগুলি গন্ডার নিখোঁজ।
এদিন জলঢাকা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও পাঁচটি বাইসনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদেশিপাড়ায়, একটি ছোবারবাড়িতে এবং একটি আমগুড়ি খাটোরবাড়িতে মিলেছে। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু হরিণ ও বুনো শুয়োরেরও মৃত্যু হয়েছে, যার সঠিক হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি।
ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্র:
গত সোমবার থেকে গরুমারা ও লাটাগুড়ি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে চারটি হরিণ, একটি বুনো শুয়োর, বেশ কয়েকটি বাইসন ও একটি গন্ডারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বন দফতরের এক আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন যে, গরুমারার বাফার জোনে কিছু গন্ডারকে দেখা গেলেও অন্তত একটি গন্ডার এখনও নিখোঁজ। স্থানীয়দের মতে, রবিবার উত্তাল জলঢাকা নদী পার হতে দেখা একটি গন্ডার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছিল কি না, সেই ধোঁয়াশা কাটেনি।
এদিকে, বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া গন্ডারের দেহ গরুমারায় ফিরিয়ে আনা হবে না বলে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জে.ভি.। তিনি গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
চিন্তা বাড়াচ্ছে শাবকদের পরিণতি:
মার্চ মাসের গন্ডার শুমারিতে গরুমারার সংখ্যা ছিল ৬১। এরপর বেশ কয়েকটি গন্ডারের জন্ম হয়েছিল। এই বন্যায় সেই নবজাতক শাবকদের কী পরিণতি হয়েছে, তা নিয়ে বন দফতরের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। হাতি ও হস্তীশাবকদের অবস্থা সম্পর্কেও কোনও তথ্য নেই। জঙ্গলের ভেতরে পলি জমে টহলদারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নজরদারিতেও বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
পরিবেশপ্রেমী মহল এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে অবিলম্বে নতুন করে সমীক্ষা চালানোর দাবি জানিয়েছে। ময়নাগুড়ি রোড পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায় বলেছে