“পড়ার ইচ্ছে ভাসাতে পারবে না”, জলপাইগুড়ির শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে অন্ধকারে আশার আলো, ত্রাণ শিবিরেই বই বিতরণ

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যায় সাধারণ মানুষের জীবন যখন কার্যত বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ভেসে এল এক মন ভালো করা ছবি। বন্যার টলটলে স্রোতে ভেসে গিয়েছিল তাদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি এবং সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—স্কুলের বই-খাতা। কিন্তু সেই অন্ধকার ভেদ করে আবার ফিরে এল শিক্ষার আলো।

ত্রাণ শিবিরেই এল নতুন বই
বন্যার জলে সব হারিয়েও পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন যাতে না ভাসে, সেই লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নিল জলপাইগুড়ি জেলা শিক্ষা দফতর।

উপহার: এদিন গধেয়ারকুঠি সহ আশপাশের বন্যা বিধ্বস্ত গ্রামগুলিতে শিক্ষা দফতরের কর্মীরা পৌঁছে দেন নতুন বই, খাতা ও কলম।

পর্যায়ক্রমে বিতরণ: প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর জন্য ধাপে ধাপে শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফার কাজ শুরু হয়েছে এবং শীঘ্রই প্রত্যেক পড়ুয়ার হাতে পৌঁছে যাবে পূর্ণ বই সেট।

পড়ুয়াদের চোখে আশার দীপ্তি
নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা। অনেকেই ত্রাণ শিবিরেই বই খুলে পড়া শুরু করে দিয়েছে, কেউ আবার নতুন খাতায় নিজের নাম লিখে হাসছে। সবটুকু হারিয়ে শুধু পড়াশোনার বই হাতে পেয়েই তাদের ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসি।

যদিও এই আনন্দের মুহূর্তেও রয়েছে কিছু বাস্তব উদ্বেগ। এক পড়ুয়া জানায়, “বই রাখার জায়গা নেই, ঘর নেই, পড়ার মতো পরিবেশও এখনও তৈরি হয়নি।” তবুও তাদের চোখে ভরসার দীপ্তি। তারা জানে, শিক্ষার আলো নিভে যেতে দেওয়া যাবে না।

ছোট্ট এক ছাত্রীর দৃঢ় কণ্ঠে সেই আশার প্রতিধ্বনি শোনা গেল: “বন্যা আমাদের বই ভাসিয়েছে, কিন্তু পড়ার ইচ্ছে ভাসাতে পারবে না।”