জন্মাষ্টমীর ব্রত রাখা নিষ্ফল যদি না করেন এই কাজ! রাধারানির কৃপা পেতে মানুন জ্যোতিষীর সোজা টোটকা

রাধাষ্টমীতে খুলবে ভাগ্যের দুয়ার! মনমতো জীবনসঙ্গী লাভ ও সংসারের সুখ-সমৃদ্ধিতে মানুন এই জ্যোতিষীয় টোটকা

শ্রীকৃষ্ণের পুণ্য জন্মতিথি জন্মাষ্টমীর ঠিক ১৫ দিন পরই পালিত হয় শ্রীরাধিকার শুভ জন্মতিথি—‘রাধাষ্টমী’। হিন্দু ধর্মে, বিশেষত বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তরা জন্মাষ্টমীর উপবাস রাখার পর রাধাষ্টমীতে ব্রত না পালন করলে জন্মাষ্টমীর সম্পূর্ণ শুভ ফল লাভ সম্ভব হয় না।

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের এই পবিত্র অষ্টমী তিথিতেই উত্তরপ্রদেশের বারসানা গ্রামে দেবী লক্ষ্মীর অবতার শ্রীরাধারাণী আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। চলতি বছরে রাধাষ্টমীতে ভক্তদের বিশেষ জ্যোতিষীয় পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত জ্যোতিষী রাহুল দে।

রাধাষ্টমীতে কী কী ভোগ দেবেন ও জপ করবেন?

জ্যোতিষ মতে, এই বিশেষ দিনে রাধারানিকে তুষ্ট করতে পারলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আসে। পাশাপাশি মেলে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার কৃপাও।

  • বিশেষ ভোগ নিবেদন: পুজোয় শ্রীরাধারাণীকে অবশ্যই ক্ষীরের মালপোয়া ও রাবড়ি ভোগ নিবেদন করুন।

  • নাম জপ: পুজো করার সময় রাধারানির ২৮টি পবিত্র নাম জপ করা অত্যন্ত শুভ।

  • মনোস্কামনা পূরণের মহা জপ: আপনার মনের বিশেষ কোনও ইচ্ছে পূরণ করতে এদিন লাল বা তুলসীর মালায় ১০৮ বার ‘শ্রী রাধা শ্রী রাধা’ নাম জপ করুন।

  • দান ও সেবা: নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্রদের বস্ত্র ও খাদ্য দান করুন।

শনিবারের রাধাষ্টমীর বিশেষ সংযোগ ও রাশির প্রতিকার

চলতি বছর রাধাষ্টমী শনিবার পড়ায় এই দিনের মাহাত্ম্য আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিদেবের শুভ প্রভাব পেতে এবং রাধারানির কৃপা লাভ করতে জ্যোতিষী কিছু বিশেষ উপাচারের কথা উল্লেখ করেছেন:

  1. শনিবারের বিশেষ দান: এদিন লোহার সামগ্রী, গোটা বিউলি (কালো ডাল), সাবান এবং কালো কাপড় দান করা অত্যন্ত কল্যাণকর।

  2. হলুদ রঙের অলৌকিক প্রভাব: এদিন পোশাকে হলুদ রঙের ব্যবহার বেশি রাখুন। নিজের কাছে হলুদ রঙের কোনও জিনিস বা সুতো রাখলেও শুভ ফল মিলবে।

  3. সধবা মহিলাদের উপহার: রাধাষ্টমীতে বিবাহিত মহিলাদের সাজগোজের উপকরণ (সিঁদুর, আলতা, চুড়ি ইত্যাদি) উপহার দিন। তবে মনে রাখবেন, কোনও কুমারী মেয়েকে এই ধরনের উপহার দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

ইসকন ও ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ

বাঙালির ঘরে ঘরে যেমন রাধাষ্টমী পালিত হয়, তেমনই মায়াপুরের ইসকন মন্দিরেও এদিন নেমে আসে বিশেষ উৎসবের ঢল। জন্মাষ্টমীর মতো অনুরূপ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গেই রাধাষ্টমী উদযাপিত হয়। হরিনাম সংকীর্তন, ভজন গান, ঢাক-খোল বাজিয়ে আনন্দ নাচ এবং রাধাকৃষ্ণের অহোরাত্র বিশেষ পুজোয় মুখরিত হয়ে ওঠে মায়াপুর ধাম।

(বিঃ দ্রঃ— এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্ত তথ্য ধর্মীয় বিশ্বাস ও জ্যোতিষীর পরামর্শের ভিত্তিতে লিখিত।)