আসানসোলে হুইসেল বাজলেই তৈরি বাচ্চারা! স্কুলছুট কমাতে অভিনব উদ্যোগ, খুশি মা-বাবা থেকে শিক্ষক সকলে

সাধারণত ফুটবল মাঠে বা নৈশ প্রহরীর কাছে হুইসেলের গুরুত্ব দেখা যায়। কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের গ্রামগুলিতে এখন এই বাঁশির আওয়াজ শুনলেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুল যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এই অভিনব উদ্যোগ এলাকায় দারুণ সাড়া ফেলেছে এবং স্কুলছুটের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করছে।
কেন নেওয়া হলো এই উদ্যোগ?
আসানসোলের পলাশডিহা গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি স্থানে মূলত দিনমজুর পরিবারের মানুষজন বসবাস করেন। এই গ্রামের মানুষজন কেউ ক্যাসারে, কেউ রাজমিস্ত্রির জোগানদারের কাজ করেন। পরিবারের সচ্ছলতা না থাকায় মা-বাবা সকালে তাড়াতাড়ি কাজে বেরিয়ে যান।
সমস্যার কারণ: মা-বাবা কাজে বেরিয়ে গেলে চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা বিভিন্ন জায়গায় খেলাধুলায় মত্ত হয়ে যেত। সময় সম্পর্কে অসচেতন থাকায় স্কুলছুটের সংখ্যাও বাড়ছিল।
সমাধান: এই সমস্যা কমাতে ‘ফুড এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এগিয়ে আসে।
এলাকার বাসিন্দা গঙ্গা ভূঁইয়া বলেন, “আমরা ক্যাসারে কাজ করি, তাই সকালেই বেরোতে হয়। তবে এখন হুইসেল বাজলেই আমাদের ছেলেমেয়েরা সবাই স্কুলের জন্য তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এটা খুব ভাল বিষয়।”
কীভাবে কাজ করছে এই ব্যবস্থা?
এই উদ্যোগের আওতায় এলাকার দু-একটি বাড়ির বয়স্ক মানুষদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুল যাওয়ার ১ ঘণ্টা আগে তাঁদের বাড়ির স্কুল পড়ুয়া ও সচেতন ছেলেরা ওই এলাকায় গিয়ে একটি করে হুইসেল বাজিয়ে দিয়ে আসে।
বাচ্চারা সেই আওয়াজ শুনে যেখানেই খেলাধুলায় মত্ত থাকুক না কেন, সেখান থেকে উঠে এসে স্কুল যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এই সাধারণ কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপের ফলে স্কুলছুটের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। এলাকার শিক্ষক সহ সকলেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।