“কোটি কোটি টাকা খরচ করেও কেন ইরানে খেলল না মোহনবাগান? সমর্থকদের গালমন্দ উড়িয়ে জবাব সৃঞ্জয় বোসের

টানা দ্বিতীয়বারের মতো এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু (ACL-2)-তে খেলতে ইরানে না যাওয়ার ঘটনায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (MBSG) ম্যানেজমেন্টের ওপর ক্ষেপে রয়েছেন সমর্থকরা। ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে মুখ খুলেছেন। শনিবার সভাপতি দেবাশিস দত্তের সঙ্গে যৌথভাবে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি ক্লাবের অভ্যন্তরে থাকা ‘আমরা-ওরা’ তত্ত্ব এবং রাজ্য ফুটবল নিয়ামক সংস্থা (আইএফএ) নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

ইরানে না যাওয়ার কারণ: ফুটবলারদের নিরাপত্তা
মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস ইরানে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, খেলার আগে ফুটবলারদের জীবনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

“আমরা গতবছরও ইরানে খেলতে যাইনি। ইরানে যে একটা সমস্যা হচ্ছে সেটা সবাই জানেন। ফুটবলাররা যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, ম্যানেজমেন্ট সেখানে কিছু করতে পারে না। ইরানে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা আমরা ফুটবলারদের উপরেই ছেড়ে দিয়েছিলাম।”

সৃঞ্জয় বোস সমর্থকদের তাড়াহুড়ো করে সমালোচনা না করার আবেদন জানিয়েছেন।

ক্লাবের অভ্যন্তরে ফাটল ও আইএফএ নিয়ে কটাক্ষ
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সৃঞ্জয় বোসের ক্ষোভ শুধু সমর্থকদের প্রতিই নয়, তিনি কার্যত ক্লাবের কার্যকরী কমিটিতে সভাপতি দেবাশিস দত্ত এবং তাঁর গোষ্ঠীর দিকেও আঙুল তুলেছেন।

‘আমরা-ওরা’ বিতর্ক: সৃঞ্জয় বলেন, “একটি টুর্নামেন্ট না খেলতে গেলে ই-মেইল করে সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা বলছেন। যা আমি কোনোদিন শুনিনি। গতবছরও খেলতে যাইনি, তখন তো এসব শুনতে হয়নি।”

দেবাশিস-সৌমিককে নিশানা: তিনি আরও বলেন, “সুপার জায়ান্ট বোর্ড অব ডিরেক্টর্সে দেবাশিস দত্ত এবং সৌমিক বসু দু’জনে আগেও ছিলেন, এখনও আছেন। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা উচিত।”

আইএফএ-কে আক্রমণ: দীর্ঘদিন পর স্বমহিমায় আইএফএ শিল্ড আয়োজিত হলেও, বাগান সচিবের কটাক্ষের মুখে রাজ্য ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। তিনি পরোক্ষে ইঙ্গিত করেছেন যে, ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে সমঝোতায় সুতারকিন স্ট্রিটের কার্যালয় চলছে।

ডার্বি জয় ‘অঘটন’ এবং গোয়েঙ্কার আগ্রহ
সৃঞ্জয় বোস চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের জোড়া ডার্বি জয়কে ‘অঘটন’ বলতেও দ্বিধা করেননি, বিশেষ করে কলকাতা লিগের ডার্বি জয়কে।

এছাড়া, ময়দানের গুঞ্জন যে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা মোহনবাগানের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন এবং উত্তরপ্রদেশের ক্লাব ইন্টার কাশীর প্রতি আগ্রহী, সেই ভাবনাকে তিনি পাত্তা দেননি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “তিনি বছরে ৭০-৮০ কোটি টাকার দল গঠন করেন সর্বোচ্চ স্তরে ভালো ফল করার জন্য। এত খরচ করে দল গঠন করার পরেও কোনো সমস্যা না-থাকলে ইরানে কেন খেলতে যাওয়া হবে না?”

অবশেষে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ সদস্য-সমর্থকদের যুক্তি দিয়ে ভাবতে এবং তাঁদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পাশে থাকার আবেদন জানিয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy