“আর কোনও দ্বিধা নয়! অপারেশন সিঁদুরের ব্যাপক ক্ষতির পর এবার ভারতের বিরুদ্ধে ‘দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু’তে হামলার হুমকি দিল পাক সেনাবাহিনী

সীমান্ত নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের জোরালো বক্তব্যের পরই এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল পাকিস্তান সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক শাখা, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) শনিবার একটি বিবৃতি জারি করে ভারতকে সতর্ক করেছে।

আইএসপিআর স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যদি ভারতের সঙ্গে কোনো নতুন সামরিক সংঘাত দেখা দেয়, তাহলে পাকিস্তান ‘দ্বিধা বা সংযম ছাড়াই’ জবাব দেবে। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া হবে ‘দ্রুত, নির্ণায়ক এবং ধ্বংসাত্মক’, যেখানে ‘দূরবর্তী অঞ্চলগুলিকে লক্ষ্য করে’ আঘাত হানা হবে।

ভারতের কঠোর হুঁশিয়ারি
আইএসপিআর-এর এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন ভারতের দিক থেকে একের পর এক কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দশমীর দিন বলেন যে পাকিস্তান যদি উস্কানি বন্ধ না করে, তাহলে তাদের ‘ইতিহাস এবং ভূগোল উভয়ই বদলে যেতে পারে।’

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এবার ভারত কোনো সংযম দেখাবে না এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতামূলক সন্ত্রাসবাদের পরিণতি পাকিস্তানকে ভোগ করতে হবে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ ও পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষতি
পাকিস্তানের এই কঠোর প্রতিক্রিয়ার অন্যতম কারণ হলো এই বছরের মে মাসে ঘটে যাওয়া সামরিক সংঘাত। পহেলগামের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত যখন ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে, তখন দুই দেশের মধ্যে বিমান যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহারসহ সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল:

ভারত প্রথমে পাকিস্তানে প্রবেশ করে নয়টি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করে।

এরপর ১১টি বিমানঘাঁটি এবং প্রায় ১৩টি বিমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

এই সময়ে প্রতিটি ফ্রন্টে পাকিস্তান পরাজিত হয়, যার ফলে তাদের ‘কোমর ভেঙে গিয়েছিল’।

সেই সময় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হলেও, পাকিস্তান বারবার সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। সেই ঘটনার বিষয়ে নতুন প্রতিক্রিয়া নীতি গ্রহণের পরই আইএসপিআর এবার তাদের প্রস্তুতি এবং ‘সংযমহীন’ জবাবের কথা প্রকাশ্যে জানাল।