অ্যাসিড সন্ত্রাসে বাংলা এক নম্বরে, ২০২৩-এ ৫৭টি হামলার ঘটনা! অপহরণ করে বিয়েতে কেন এগিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার?

দেশের নারী নির্যাতনের সার্বিক চিত্র সামান্য কমলেও, একটি ভয়াবহ অপরাধের পরিসংখ্যানে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষে উঠে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতীয় অপরাধ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (NCRB) ‘ক্রাইম ইন ইন্ডিয়া ২০২৩’ রিপোর্ট অনুসারে, অ্যাসিড হামলার ঘটনায় এ রাজ্য শীর্ষে অবস্থান করছে।

এই রিপোর্ট রাজ্যের নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অ্যাসিড হামলায় পশ্চিমবঙ্গের স্থান
২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ২০৭টি অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই ঘটেছে ৫৭টি হামলা।

জাতীয় মোট ঘটনার ২৭.৫ শতাংশই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে।

২০২১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গোটা দেশেই অ্যাসিড আক্রান্তের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে ২০২টি এবং ২০২১ সালে ১৭৬টি অ্যাসিড হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

রাজ্য ২০২৩ সালে অ্যাসিড হামলার সংখ্যা
পশ্চিমবঙ্গ ৫৭ (শীর্ষে)
উত্তরপ্রদেশ ৩১
গুজরাত ১৫
রাজস্থান ও ওড়িশা ১১ করে
দিল্লি ৭

Export to Sheets
এনসিআরবি-র তথ্য বলছে, অ্যাসিড হামলার ঘটনায় ২৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪৬ জন পুরুষ, ২১ জন মহিলা ও ৫ জন নাবালক।

অপহরণ এবং নারী নির্যাতনের সামগ্রিক চিত্র
অন্যদিকে, জোরজবরদস্তি বিয়ে করতে বাধ্য করার জন্য মহিলা অপহরণে উত্তরপ্রদেশ ও বিহার শীর্ষে রয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দেশজুড়ে উত্তরোত্তর বাড়ছে:

রাজ্য জোরপূর্বক বিয়েতে অপহরণের সংখ্যা (২০২৩)
উত্তরপ্রদেশ ১০,৬৭৫
বিহার ৯,৪৮৬
মধ্যপ্রদেশ ১,৬৭৫

শহরগুলির মধ্যে লখনউ (৪২৯), কানপুর (২৬৪) এবং পাটনা (২৫০) এই তালিকায় একেবারে প্রথমে রয়েছে।

নারী নির্যাতনের সামগ্রিক পরিসংখ্যান
২০২৩ সালে সর্বমোট ৪.৫ লক্ষ অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে নারী সমাজের বিরুদ্ধে।

নারী নির্যাতনের জাতীয় অপরাধ হার প্রতি লক্ষ মহিলা জনসংখ্যায় ৬৬.২%।

নারীঘটিত অপরাধের মোট সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে: উত্তরপ্রদেশ (৬৬,৩৮১), মহারাষ্ট্র (৪৭,১০১), রাজস্থান (৪৫,৪৫০), পশ্চিমবঙ্গ (৩৪,৬৯১)।

প্রতি লক্ষ মহিলা জনসংখ্যায় অপরাধের হারে শীর্ষে রয়েছে: তেলেঙ্গানা (১২৪.৯), রাজস্থান (১১৪.৮), ওড়িশা (১১২.৪)।

আদালতে মামলার পাহাড়
এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, আদালতে নারী নির্যাতনের বকেয়া মামলার পরিমাণ ২৩,০৩,৬৫৭টি, যা মোট মামলার ৯০.৮ শতাংশ।

ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পল্লবী ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, এনসিআরবি-র সংখ্যাগুলি প্রকৃত চিত্র নয়। তিনি দাবি করেন, বেশিরভাগ নারী নির্যাতনের ঘটনার তো পুলিশেই অভিযোগ হয় না এবং অধিকাংশ নারী পাচারের ঘটনাকে নিখোঁজ ডায়েরি করে ছেড়ে দেওয়া হয়।