আমেরিকায় ৬২০ কোটি টাকার মহা-প্রতারণা! এফবিআইয়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতে এসে কোথায় লুকোলেন এই ব্যক্তি?

আমেরিকায় স্বাস্থ্যবিমার নামে শত শত কোটি টাকার মহা-প্রতারণা চালিয়ে ভারতে এসে আত্মগোপন করল এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মহম্মদ কাদির খান। টেক্সাস থেকে শুরু করে মার্কিন বিচার বিভাগ— সর্বত্র এখন সে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। জালিয়াতির মোট পরিমাণ ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অন্তত ৬ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬২০ কোটি টাকা) সে হাতিয়ে নিয়েছে বলে এফবিআই (FBI) ও মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

আমেরিকার টেক্সাসের রিচার্ডসনে ‘আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবস’ নামে একটি শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ল্যাব চালাত এই কাদির খান। অভিযোগ, ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবরের মধ্যে সে জেনেটিক পরীক্ষার নামে ভুয়ো মেডিকেয়ার ক্লেম বা স্বাস্থ্যবিমার দাবি পেশ করা শুরু করে। আইন অনুযায়ী জেনেটিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ স্বাস্থ্যবিমার অর্থ ফেরতের নিয়ম নেই। তা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের অজান্তে তাঁদের পরিচয়, ব্যক্তিগত তথ্য ও ভুয়া সই ব্যবহার করে কোটি কোটি ডলারের ক্লেইম দাখিল করেছিল কাদির।

আমেরিকার স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা দফতরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় জানায়, কাদির যে সমস্ত পরীক্ষার নাম করে টাকা তুলেছে, তার একটিও কোনো চিকিৎসক নির্দেশ দেননি এবং কোনো গ্রাহকের সুবিধার্থেও তা করা হয়নি। কাদির খানের জালিয়াতি টের পেয়েই তার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

তদন্তের রাশ টেনে মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআই কাদিরের খোঁজে হন্যে হয়ে তল্লাশি শুরু করতেই সে আমেরিকা ছেড়ে চম্পট দেয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা খবর পায়, কাদির পালিয়ে এসে হায়দরাবাদে গা ঢাকা দিয়েছে। এর পরপরই এফবিআই ভারতের তেলঙ্গানা পুলিশ ও হায়দরাবাদ প্রশাসনকে বিষয়টি জানায় এবং আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা জারি করে।

বর্তমানে হায়দরাবাদ পুলিশ এই হাই-প্রোফাইল অভিযুক্তকে ধরতে বিশেষ টিম গঠন করেছে। শামশাবাদ বিমানবন্দর দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কারা শহরে প্রবেশ করেছে, তার তালিকা ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে পুলিশ। এফবিআই ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ তৎপরতায় আন্তর্জাতিক এই প্রতারককে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।