মেসিহীন বার্সা বনাম দেম্বেলেহীন পিএসজি, ‘ন্যু ক্যাম্পে ফিরেই বাজিমাত এনরিকের! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কাঁটা কাতালানদের কপালে

ওসমান দেম্বেলের অনুপস্থিতিতেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নিজেদের জাত চেনাল প্যারিস সাঁ জাঁ (পিএসজি)। বার্সেলোনার অস্থায়ী হোমগ্রাউন্ড অলিম্পিক্স স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও লুইস এনরিকের ছেলেরা ২-১ গোলে হারাল কাতালান ক্লাবটিকে। বার্সেলোনার প্রাক্তন কোচের হাতেই নিজেদের মাঠে পরাস্ত হলো বার্সা। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে নাটকীয় গোল করে পিএসজি’র নায়ক হয়ে উঠলেন পরিবর্ত ফুটবলার গনসালো রামোস।

শুরুতে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা
বুধবারের ম্যাচে শুরুতে রাশ ছিল বার্সেলোনার হাতে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের সুবাদে ১৯ মিনিটে লিড নেয় তারা। ডানদিক থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের সাজিয়ে দেওয়া বল ধরে জালে জড়ান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। অবশ্য এর পাঁচ মিনিট আগেই ফেরান তোরেস গোল করতে পারতেন, কিন্তু ডিফেন্ডারের কাছে আটকে যান তিনি।

ঘুরে দাঁড়াল পিএসজি, নজর কাড়লেন মায়ুলু
পিছিয়ে পড়ার পর যেন তাগিদ বাড়ে পিএসজি’র। ৩০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির ফ্রি-কিক দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় বাঁচান বার্সা গোলরক্ষক ওজকিয়েচ সেজনি। তবে আট মিনিট পরই সমতা ফেরায় প্যারিসের ক্লাবটি। নুনো মেন্ডেসের প্রতি-আক্রমণ থেকে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিং দেন ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার সেনি মায়ুলু। বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির একটি ছোট্ট ভুলে বক্সের বাইরে বল ধরে বক্সে প্রবেশ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতা নিয়েই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি’র দাপট, জয়ী রামোস
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি তাদের দাপট বাড়ালেও, তরুণ ল্যামিন ইয়ামালের ডানপ্রান্তিক আক্রমণ মাঝেমধ্যে ফরাসি রক্ষণে বিপদ ডেকে আনছিল। ৬৪ মিনিটে ড্যানি ওলমোর একটি নিশ্চিত গোল বাঁচান পিএসজি অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ৮৩ মিনিটে পিএসজি’র পরিবর্ত ফুটবলার লি-কাং-ইনের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলেও, নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সমস্ত কাজ শেষ করেন আরেক পরিবর্ত গনসালো রামোস।

অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির মাপা সেন্টার থেকে পর্তুগিজ ফুটবলারের জোরালো ভলি সোজা জালে জড়িয়ে যায়, যা ২-১ গোলের দুর্ধর্ষ জয় এনে দেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি’কে।

অন্য ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের গোল, তবুও জয় অধরা ম্যান সিটির
এদিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্য ম্যাচে জয় অধরা রইল ম্যানচেস্টার সিটির। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল সত্ত্বেও মোনাকোর ঘরের মাঠে ২-২ ড্র করল ‘স্কাই ব্লুজ’। অন্যদিকে, আর্সেনাল অবশ্য ঘরের মাঠে ২-০ গোলে অলিম্পিয়াকোসকে হারিয়েছে। গানারদের হয়ে জোড়া গোল করেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি ও বুকায়ো সাকা।

বার্সেলোনা কি তাদের হোমগ্রাউন্ডে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউটে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে বলে আপনার মনে হয়?