“AI-এর দাপটে বদলে যাবে শিক্ষা”-হার্ভার্ডের অধ্যাপকের মতে এবার ক্লাসরুমে কী শেখা হবে?

আর মাত্র ২৫ বছর পর, অর্থাৎ ২০৫০ সালে স্কুলের চরিত্র এবং শিক্ষাব্যবস্থা আজকের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। প্রথাগত পড়াশোনা, মুখস্থ বিদ্যা বা দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস করার ধারণাটাই আমূল বদলে যাবে। সম্প্রতি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এমনটাই পূর্বাভাস দিয়েছেন।

হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কগনিশন এডুকেশনের প্রফেসর হাওয়ার্ড গার্ডনার এবং এআই ফার্ম ড্রাগনফ্লাই থিংকিং-এর সিইও অ্যান্থিয়া রবার্টস ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

AI-এর দাপটে বদলে যাবে শিক্ষার কৌশল:

বিশ্বখ্যাত মাল্টিপল ইন্টেলিজেন্স থিয়োরির প্রবক্তা প্রফেসর গার্ডনারের মতে, আগামীদিনে শিক্ষার ক্ষেত্রে এমন বড়সড় বদল আসতে চলেছে, যা গত ১০০০ বছরেও আসেনি।

তাঁর প্রধান বক্তব্য হলো— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) কেবল শিক্ষা প্রদানের পদ্ধতিতেই বদল আনবে না, বরং মানুষ যেভাবে জ্ঞান অর্জন করে, সেই প্রক্রিয়াকেও পাল্টে দেবে।

গার্ডনার বলেন, “আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে শিশুদের কেবল পড়া, লেখা ও অঙ্কের মতো বেসিক শিক্ষার সঙ্গে কোডিং শেখানোটা হবে একটি নতুন কৌশল।” তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগে যে দক্ষতাগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হতো, এখন যন্ত্রের মাধ্যমে তা সহজেই করা সম্ভব। তাই সেই দক্ষতাগুলি শেখানোর জন্য বাচ্চাদের আর ‘মাথা খারাপ করার’ প্রয়োজন নেই।

শিক্ষক হবেন মেন্টর, কমবে স্কুলের সময়কাল:

হার্ভার্ড গেজেটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, গার্ডনার আরও মনে করেন যে, বেসিক জ্ঞান অর্জনের পর শিক্ষকদের আর আজকের মতো আচরণ করলে চলবে না। তাঁদের ভূমিকা বদলে গিয়ে ‘মেন্টর’-এর মতো হতে হবে।

পাশাপাশি, তিনি স্কুলের সময়সীমা কমানোর পক্ষেও সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে টানা ১০ থেকে ১৫ বছর স্কুলে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড ল স্কুলের ভিজিটিং প্রফেসর অ্যান্থিয়া রবার্টসও গার্ডনারের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞান অর্জন করবে না, বরং তারাই এআই-এর দল পরিচালনা করবে এবং সক্রিয়ভাবে সব কাজে অংশ নেবে। সহজ কথায়, শিক্ষা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন অনিবার্য।