পুজোর শুভেচ্ছা পোস্টে ‘অসুর নিধনের’ বার্তা দিলেন সাংসদ কাকলি! ‘আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করলে ধ্বংস হবেন’, তৃণমূলের অন্দরে জোর শোরগোল

দুর্গাপূজার প্রাক্কালে বারাসতের চারবারের সাংসদ এবং তৃণমূলের দাপুটে নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। শুভ শারদ শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি তাঁর পোস্টে এমন কিছু ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে তুমুল চর্চা।

সাংসদের পোস্টে কেন এত বিতর্ক?
রবিবার বাড়ির দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে কাকলি ঘোষ দস্তিদার লেখেন:

“সবাইকে শারদ শুভেচ্ছা জানাই। অসুর নিধনকারী মা আমার আরাধ‍্য দেবী। যারা আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে তাদের ধ্বংস করে দেবেন।”

এর পরেই তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে লেখেন, “আমি জ্ঞানত কোনও অন‍্যায় করিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আমার সঙ্গে যতদিন আছেন, আমায় কেউ হারাতে পারবে না।” মমতার আস্থাভাজন এই নেত্রীর পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

গোষ্ঠীকোন্দলের তত্ত্ব উসকে দিলেন বিরোধীরা
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিস্ফোরক পোস্টের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল। সম্প্রতি তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলায় ব্লক ও শহরের বিভিন্ন পদাধিকারী পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, আগে যাঁরা এই পদগুলিতে ছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ঘনিষ্ঠ। বর্তমানে যে তরুণ মুখগুলি দায়িত্বে এসেছেন, তাঁদের অনেকেই সাংসদের বিরোধী গোষ্ঠীর বলে পরিচিত।

বিরোধী শিবির এই সুযোগে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব উসকে দিয়েছে এবং কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

কাকলির দাবি: নিশানা আসলে বিরোধীরা
যদিও তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, এই পোস্টটি হলো মা দুর্গার কাছে তাঁর ব্যক্তিগত প্রার্থনা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন:

“যে দলটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতে ধরে মহীরুহ করেছেন, সেই দলের বিরুদ্ধে কিছু বলার ঔদ্ধত্য আমার নেই। দলের পতাকা নিয়েই আমি মরব। বিরোধী দলের যারা আমাকে হারাতে এবং আমার ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে তাদের জন‍্যই এমনটা বলা।”

উল্লেখ্য, রাজনীতির শত ব্যস্ততার মধ্যেও চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদার মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ায় তাঁর পৈতৃক পুজোয় অংশ নেন। তাঁর পরিবারের এই পুজোটি প্রায় ৩৩৩ বছরের পুরনো, যদিও মধ্যমগ্রামের বাড়িতে এই পুজো হচ্ছে ৪২ বছর ধরে। সাংসদের এই পোস্ট তাঁর পারিবারিক পুজোর সমস্ত খবরকে ছাপিয়ে গিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে।