কানে পোকা বা কিছু ঢুকেছে? ভুলেও নিজে খোঁচাখুঁচি করবেন না, জানুন কেন?

আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে কান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ, যা আমাদের শোনার ক্ষমতা দেয়। কিন্তু অসাবধানতাবশত বা কান চুলকাতে গিয়ে অনেক সময় নানা বিপদ ঘটে যায়। কানের ভেতর কাঠি ভেঙে যাওয়া, কিংবা মশা-মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়ের মতো জীব ঢুকে পড়া খুবই সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন, তা জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল পদক্ষেপ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
কেন নিজে কানে খোঁচাখুঁচি করবেন না?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানে কিছু ঢুকে গেলে নিজে খোঁচাখুঁচি করলে তা কানের পর্দার ক্ষতির কারণ হতে পারে, এমনকি পর্দা ফুটোও হয়ে যেতে পারে। কটনবাডের অংশ, দেশলাই কাঠি, পালক, ধান বা ফলের বীজের মতো জড় বস্তু ঢুকলে কিছুটা সময় নেওয়া যেতে পারে, তবে মশা-মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়ে বা অন্য কোনো জীবন্ত পোকা ঢুকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ জীবন্ত পোকা কানের ভেতরে নড়াচড়া করে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
কানে পোকা বা কিছু ঢুকে গেলে কী করবেন?
১. টর্চলাইটের ব্যবহার: যদি কানে মশা, মাছি, তেলাপোকা, পিঁপড়ে বা অন্য কোনো জীবন্ত পোকা ঢুকে যায়, তাহলে প্রথমেই কানের মধ্যে টর্চলাইট ফেলুন। জীবন্ত পোকামাকড় আলোর প্রতি সংবেদনশীল হওয়ায় অনেক সময় আলোর দিকে আকৃষ্ট হয়ে নিজেরাই বেরিয়ে আসতে পারে।
২. তেলের ব্যবহার: কানে কোনো জীবন্ত পোকা ঢুকলে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল কানের মধ্যে দিন। এতে পোকাটি মরে যাবে, ফলে ব্যথা বা অস্বস্তি কমে যাবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব নাক-কান-গলার (ENT) চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক কানের ভেতরে ঢুকে যাওয়া বস্তুর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে তা বাইরে বের করে আনবেন।
৩. জড় বস্তুর ক্ষেত্রে সতর্কতা: কানে কোনো জড় বস্তু (যেমন – কটনবাডের অংশ, দেশলাই কাঠি) ঢুকলে নিজে সেটি বের করার কোনো চেষ্টা করবেন না। খোঁচাখুঁচির ফলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। তাই এক্ষেত্রেও সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. পোকা বের করার ঘরোয়া কৌশল (সতর্কতার সাথে): বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, যদি কানে মশা বা মাছি ঢুকে যায়, তাহলে অনেক সময় একটি হাত দিয়ে নাক চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে অন্য কানটি চেপে ধরতে পারেন। এতে ভেতরে থাকা পোকা অনেক সময় বেরিয়ে আসে। তবে এই পদ্ধতিতেও কাজ না হলে বা অস্বস্তি বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আবশ্যক।