মাথাপিছু আয় কমছে, ঋণ বাড়ছে! জিএসটি সংস্কার নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নিলেন সুজন চক্রবর্তী!

দেবীপক্ষের সূচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সাশ্রয় উৎসব’ ঘোষণাকে কটাক্ষ করলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, জিএসটি ২.০-এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে এবং তাদের সঞ্চয় বাড়বে। কিন্তু এই ঘোষণাকে ‘দেখনদারি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সুজন।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তথ্য উল্লেখ করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংসার চালানোর জন্য ধারের পরিমাণ দেড় গুণ বেড়ে গেছে। সঞ্চয়ের পরিমাণ ক্রমশ কমছে। সংসার চালাতে গিয়ে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।” এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি জানি না উনি কিসের সাশ্রয় উৎসবের কথা বলছেন! ক’টা দিন যেতে দিন। এটাও নরেন্দ্র মোদীর আর পাঁচটা ঘোষণার মতো দেখনদারিতেই পরিণত হবে।”
মাথাপিছু আয় ও ঋণের চাপ
প্রাক্তন আরবিআই গভর্নর সি রঙ্গরাজনও কিছুদিন আগে ভারতের মাথাপিছু আয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হলেও মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে। ২০২০ সালের পরিসংখ্যানে বিশ্বের ১৯৭টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ১৪২-এ।
অন্যদিকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৩ সালের মার্চে যেখানে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ছিল ৩.৯ লক্ষ টাকা, ২০২৫ সালের মার্চে তা বেড়ে হয়েছে ৪.৮ লক্ষ টাকা। তাই বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানো শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। কংগ্রেসও এই জিএসটিকে ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ বলে কটাক্ষ করেছে এবং অভিযোগ করেছে, এর মাধ্যমে এতদিন সাধারণ মানুষকে লুট করা হয়েছে।