সামান্য একটা দেশলাইয়ের কাঠি জোগাড় না হওয়ায় কেড়ে নিল তরতাজা প্রাণ! রাজধানীর বুকে এ কোন বিভীষিকা?

সিগারেটে আগুন ধরাতে চেয়েছিল তিনজন তরুণ। কিন্তু কাছে দেশলাই বাক্স না থাকায় তা দিতে পারেননি দুই ব্যক্তি। আর এই সামান্য একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে যে এমন ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী কাণ্ড ঘটে যেতে পারে, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবেননি। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির কেশব পুরম এলাকায় একটি মদের দোকানের সামনে সামান্য বচসার জেরে খুন হতে হলো এক যুবককে। গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও একজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম ভবানী এবং আহত ব্যক্তির নাম আশা রাম (৩২)। মঙ্গলবার কেশব পুরমের ওই মদের দোকানের সামনে ভবানীদের কাছে দেশলাই চান তিন তরুণ। কিন্তু কাছে দেশলাই না থাকায় তাঁরা তা দিতে অপারগ প্রকাশ করেন। আর তাতেই শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্তদের মধ্যে এক যুবক ধারালো অস্ত্র বের করে ভবানী ও আশা রামের উপর এলোপাথাড়ি ছুরি চালাতে শুরু করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই রক্তাক্ত যুবককে উদ্ধার করে দীপ চাঁদ বন্ধু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা ভবানীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর পিঠের বাঁদিকে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে, বুকে ও শরীরের অন্যান্য স্থানে মারাত্মক চোট নিয়ে বেঁচে থাকলেও আশা রামের শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি এখনও পুলিশকে জবানবন্দি দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ১০৩-১ (খুন) এবং ধারা ১০৯-১ (খুনের চেষ্টা)-এর অধীনে কেশব পুরম থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে একজন নাবালক, অপর একজনের নাম তরুণ এবং মূল অভিযুক্তের নাম নরেশ বাহাদুর ওরফে নেপালি। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখে নরেশসহ বাকিদের ধরতে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর বুকে এমন তুচ্ছ কারণে প্রাণহানির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।