পালানোর নো চান্স, মাত্র কয়েক মিনিটে শত্রুপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেবে! আসছে ‘টাইফুন’, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘টাইফুন’। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থল থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আকাশ, সমুদ্র ও স্থলভাগের শত্রুর লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে সক্ষম। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি শুধু দ্রুতই নয়, এর পাল্লা এবং বহু-লক্ষ্যে আঘাত হানার ক্ষমতাও অতুলনীয়।

‘টাইফুন’ মূলত মার্কিন সেনাবাহিনীর তৈরি একটি মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি নৌবাহিনীর ব্যবহৃত টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রকে স্থলভিত্তিক লঞ্চারে রূপান্তরিত করে কাজ করে।

টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: এর পাল্লা প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার (১,০০০ মাইল)। এটি দূরপাল্লার যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র: এর পাল্লা ২০০ কিলোমিটারের বেশি। এটি মূলত জাহাজ বা আকাশপথে আক্রমণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এই দু’ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কারণে ‘টাইফুন’ স্বল্প পাল্লা থেকে শুরু করে খুব দীর্ঘ পাল্লার লক্ষ্যবস্তুকেও ধ্বংস করতে সক্ষম। এই সিস্টেমটি দ্রুত যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা যায় এবং আধুনিক কমান্ড সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

কেন এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে?
‘টাইফুন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলা করা। এছাড়াও, মার্কিন সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতার অভাব দূর করা এবং শত্রুর অবস্থানের গভীরে আঘাত হেনে কৌশলগত প্রতিরক্ষা জোরদার করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

২০২৩ সালে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিলিপাইনে এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় এর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪-২৫ সালে অনেক দেশই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।