সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা, নড়েচড়ে বসেছে আন্তর্জাতিক মহল

সম্প্রতি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই চুক্তির তাৎপর্য বহুগুণে বেড়েছে যখন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ খোলাখুলিভাবে বলেছেন যে, প্রয়োজনে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা সৌদি আরবের সুরক্ষায় ব্যবহৃত হতে পারে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক নিরাপত্তার সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত বুধবার স্বাক্ষরিত এই **’কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’**তে বলা হয়েছে, যদি কোনো তৃতীয় পক্ষ এই দুই দেশের কোনো একটির ওপর আক্রমণ করে, তবে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে এবং যৌথভাবে তার মোকাবিলা করা হবে। জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, “আমাদের যা কিছু আছে, আমাদের সক্ষমতা, সবই এই চুক্তির অধীনে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধ হবে।” তিনি আরও জানান, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের জন্যও সম্প্রসারিত হতে পারে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা, যারা মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র বলে বিবেচিত হয়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
এই চুক্তিতে ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। যদিও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক মিত্রতা রয়েছে, এই চুক্তি ভারতের নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন ঘটাতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, নয়াদিল্লি আশা করে যে সৌদি আরব তাদের ‘পারস্পরিক স্বার্থ এবং সংবেদনশীলতা’কে মাথায় রাখবে। তিনি জানান, ভারত এই চুক্তির ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, “ভারতের জন্য এটি একটি নতুন বাস্তবতা।” তিনি মনে করেন, এই চুক্তি কেবল পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ভারতের নিরাপত্তা হিসেবনিকেশও বদলে দেবে। দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হয় যে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে, এবং এই চুক্তি সেই অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ককেই একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।