মজুতদারদের কড়া বার্তা! চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে কী করতে চলেছে কেন্দ্র?

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে দেশে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে চিনির দাম। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটল কেন্দ্র। বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রুখতে দেশের সমস্ত চিনি কলকে অবিলম্বে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি সরবরাহ বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে বা মজুতদারির প্রমাণ মিললে কঠোর সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করা হবে।

গত মাসেই দেশের বাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল চিনির দাম। বাজারে সরবরাহে টান পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। খাদ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অশ্বিনী শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে শুধু সাধারণ চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং উৎসবের বাজারে অধিক মুনাফার আশায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর মজুতদারি বড় ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়। যদিও আমদানির সিদ্ধান্তের জেরে কিছুটা দাম কমলেও, তা এখনও দুই মাস আগের তুলনার প্রায় ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতে উৎসবের মরশুম চলায় চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বহুলাংশে বেড়ে যায়। গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো, দশেরা থেকে দীপাবলি—প্রতিটি উৎসবেই মিষ্টির চাহিদা তুঙ্গে থাকে। এই সময়ে যাতে বাজারে জোগান ব্যাহত না হয়, সে কারণেই নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সরকারের অনুমান, ব্রাজিল সহ বিদেশ থেকে অতিরিক্ত চিনি আমদানি করায় বাজারে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হবে। এর পাশাপাশি দেশের সমস্ত চিনি কলকে প্রতি মাসে উৎপাদন এবং বিক্রির সঠিক হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মজুতদারির প্রতিটি ফাঁকফোকর বন্ধ করা যায়।